অন্ডালে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মহিলা মোর্চার পদাধিকারীর নাম, ক্ষোভ
*বেঙ্গল মিরর, অন্ডাল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পদ ঘোষণা হয়েছিল ঢাকঢোল পিটিয়ে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই তালিকা থেকে নাম উধাও! বিজেপির মহিলা মোর্চার সাংগঠনিক পদ নিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দলের অন্দরেই কার্যত বোমা ফাটালেন অন্ডালের উখড়ার বাসিন্দা বিজেপি নেত্রী মৌ ভান্ডারী।প্রসঙ্গতঃ গত ১৪ আগস্ট বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক তরফে মহিলা মোর্চার পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকায় রানিগঞ্জ-৩ নম্বর মণ্ডলের মণ্ডল প্রমুখ হিসেবে নাম ছিল মৌ ভান্ডারীর। নাম ঘোষণার পর উখড়ার একটি বিজেপি কার্যালয়ে তাঁকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।কিন্তু এরপরই ঘটে নাটকীয় পরিবর্তন।














মৌ ভান্ডারীর অভিযোগ, নাম ঘোষণার পরদিনই তালিকা থেকে তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়। ঐ পদে মনিকা দাসকে বসানো হয়। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ মৌয়ের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সালে উখড়া গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে পদ্মফুল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। দলের তরফে সময়ে সময়ে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেও তাঁর দাবি।
তিনি বলেন, মণ্ডল প্রমুখ হিসেবে নাম ঘোষণার পর যেভাবে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাতে আমি মর্মাহত। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও দাবি মৌ ভান্ডারির।এই ঘটনার পিছনে তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন দলের রানিগঞ্জ ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ইন্দ্রসেন রায়ের দিকে। মৌ অভিযোগ করে বলেন , ব্যক্তিগতভাবে আমাকে পছন্দ করেন না মণ্ডল সভাপতি।
সেই কারণেই নিজের অনুগামীকে ঐ পদে বসাতে আমার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।শুধু অভিযোগ তুলেই থামেননি মৌ। বিষয়টি জেলা নেতৃত্বের নজরেও এনেছেন বলে দাবি তাঁর। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও কোনও বিচার পাননি বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।ঘটনায় বিজেপির সাংগঠনিক অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, পদ ঘোষণা করার পর এত দ্রুত কিভাবে বদলে গেল তালিকা? কার নির্দেশে বাদ গেল নাম?
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে রানিগঞ্জ ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ইন্দ্রসেন রায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওউঠা অভিযোগ একেবারে মিথ্যে। কারণ যখন মন্ডল সভাপতির নামের তালিকা বের প্রিন্টিং মিস্টেকের কারণে মৌ ভান্ডারীর নাম ছাপা হয়েছিলো। জেলা নেতৃত্ব সঙ্গে সঙ্গেই তা ঠিক করে। যেখানে রানীগঞ্জ মন্ডল ৩ এর নতুন মন্ডল সভাপতি হিসাবে অন্যের নাম ঘোষণা করা হয়।এর ফলে বিজেপির মহিলা মোর্চার পদ নিয়ে উখড়ায় দলের অন্দরেই অসন্তোষের আঁচ ছড়িয়েছে। তা প্রকাশ্যে চলে আসায় বেশ কিছুটা হলেও বিব্রত পদ্ম শিবির।






