নির্বাচনে ভরাডুবির পরে আত্মসমালোচনায় আসানসোলের তৃণমূল নেতা ‘প্রথম শ্রেণি থেকে ফের শুরু করতে হবে’
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোলে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এবার দলের সংগঠনকে নতুন করে গোছানোর বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতা ভি. শিবদাসন ওরফে দাসু। মঙ্গলবার নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে একাধিক বিষয়ে আত্মসমালোচনার সুর শোনা গেল তাঁর বক্তব্যে। সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যা দূর করে একেবারে ‘প্রথম শ্রেণি’ থেকে নতুন করে পথ চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।













দাসুর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছরের সময়কালে দলের সঙ্গে থাকা অনেকেই ধাপে ধাপে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে উঠে এসেছেন। কিন্তু পাশাপাশি এমনও অনেকে ছিলেন, যারা সরাসরি উঁচু স্তরে এসে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর মতে, সংগঠনে এই ধরনের ‘সরাসরি উপরে উঠে আসা’র প্রবণতা দলের ভিতকে দুর্বল করেছে।নিজের বক্তব্যে স্কুলের উদাহরণ টেনে দাশু বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করে একজন পড়ুয়া ধাপে ধাপে দশম শ্রেণিতে পৌঁছায়। কিন্তু কেউ যদি প্রথম থেকে পড়াশোনা না করে সরাসরি নবম বা দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়, তাহলে তার ভিত কতটা শক্ত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
দলের সংগঠনের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রথম স্তর থেকে কাজ শুরু করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।দাসু আরো বলেন, অতীতে এমন কিছু ব্যবস্থা ছিল যেখানে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিরাও সরাসরি দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় বসতেন। পরীক্ষায় তাঁরা পাশও করতেন। কিন্তু তাতে প্রকৃত শিক্ষার ভিত তৈরি হয় না।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের ক্ষেত্রেও শুধু নির্বাচনের সময় সক্রিয় হয়ে সাফল্য পাওয়ার চেষ্টা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিচুতলায় মানুষের সঙ্গে থেকে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলের পর এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে, এদিনের দাসুর বক্তব্যে শুধু সমালোচনা নয়, নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার বার্তাও রয়েছে।
তাঁর কথায়, যারা ইতিমধ্যেই দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, তাঁদের নিয়ে বেশি চিন্তা না করে যারা এখনও দলের সঙ্গে রয়েছেন, তাঁদের নিয়েই নতুন করে পথ চলতে হবে।দাসু বলেন, খারাপ সময় চিরস্থায়ী হয় না। সংগঠনে যেমন ভালো সময় আসে, তেমনই খারাপ সময়ও আসে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে নতুনভাবে শুরু করার প্রয়োজন রয়েছে।
তাঁর বার্তা, এবার আর সরাসরি ‘দশম শ্রেণি’ নয়, প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দাসুর এই বক্তব্যে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে দলের অন্দরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে, সব ধাক্কা সামলে বুথস্তর থেকে সংগঠনকে কতটা পুনর্গঠন করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

