KULTI-BARAKAR

কল্যানেশ্বরীতে আসানসোল পুরনিগমের পিপিপি মডেল অতিথি নিবাস ঘিরে আইনি জটিলতা, জমির নথি খতিয়ে দেখল আদালত ও বিএলআরও

বেঙ্গল মিরর, কল্যানেশ্বরী রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল পুরনিগম মাইথনে আসা মানুষদের থাকার জন্য তৈরি করেছিলো ‘মা কল্যাণেশ্বরী অতিথি নিবাস’। কিন্তু সেই অতিথি নিবাসকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে জমি সংক্রান্ত বিতর্ক ও আইনি জট। অতিথি নিবাস তৈরি করা জমিকে নিজের মালিকানা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার প্রসাদ নুনিয়া। তিনি বলেন, দেবীপুর মৌজার ১২৪১ দাগ নম্বর প্লটে আমার মোট ১ বিঘা ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আসানসোল পুরনিগম জোর করে সেই জমিতে অতিথি নিবাস তৈরি করেছে। সেই জমি তারই বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে দখলের নির্দেশ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জমির দখল না পাওয়ায় তিনি পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তারপর সোমবার আবারও তাকে দখল দেওয়া হবে বলে আসানসোল আদালত থেকে টিম আসে। কিন্তু এদিনও তাকে সেই জমির দখল দেওয়া হলো না। তার কথা অনুযায়ী যে জমিতে অথিতি নিবাস গড়ে উঠেছে সেটি ১২৪১ নং দাগের। সেটি হচ্ছে তার জমি বলে এদিনও দাবি করেন রাজকুমার প্রসাদ নুনিয়া।

অন্যদিকে, এই দাবিকে বিরোধিতা করে জমিটি অন্য দাগ নম্বরের বলে দাবি করেছে আসানসোল পুরনিগম কর্তৃপক্ষ।সোমবারে বিবাদের জায়গাটি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে আসানসোল আদালত থেকে আসেন নাজির, বিএলআরও দপ্তরের আধিকারিক ও আইনজীবীরা। উপস্থিত ছিলেন কুলটি থানা ও কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরাও। আদালত থেকে আসা প্রতিনিধি ও বিএলআরও দপ্তরের আধিকারিকরা ম্যাপ ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র মিলিয়ে দেখে জমি চিহ্নিত করার কাজ করেন। তারা রিপোর্ট করে তা রিপোর্ট আদালতে জমা দেবেন।আসানসোল পুরনিগমের আইনজীবী রবিউল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, পুরো বিষয়টি বর্তমানে সিভিল কোর্টের বিচারাধীন। মূলতঃ ১২৪১ নম্বর প্লট এবং ১/১২৪১ নম্বর প্লটের সীমানা নিয়ে এই আইনি লড়াই। আদালতের পূর্বের নির্দেশ ছিল ১২৪১ প্লট সংক্রান্ত। অথচ বর্তমান অতিথি নিবাসটি গড়ে উঠেছে ১/১২৪১ নম্বর প্লটে। আদালতের প্রতিনিধি ও বিএলআরও আধিকারিকেরা জমি চিহ্নিত করে রিপোর্ট আদালতে পেশ করবেন। পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

অতিথি নিবাসের দায়িত্ব নেওয়া রামচন্দ্র সাউ বলেন, পিপিপি মডেলে এই অতিথি নিবাস তৈরি হওয়ার পরে আসানসোল পুরনিগম তা চালানোর জন্য আমাকে হস্তান্তর করে। আমার জানা এটি ১/১২৪১ নম্বর দাগের সরকারি প্রজেক্ট। মামলাটি মূল জমি দাবিদারের সাথে পুরনিগমের, যার নিষ্পত্তি আদালত করবে।জানা গেছে, আদালতের প্রতিনিধিরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও ম্যাপ পর্যালোচনা শেষে তাদের রিপোর্ট আসানসোল আদালতে জমা দেবেন। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কিত অতিথি নিবাসের জমির ভবিষ্যৎ।

আসানসোল পুরো নিগমের পিপিপি মডেল নিয়ে জটিলতা নতুন নয় আসানসোল শহরে কয়েক বছর ধরে পার্কিং প্লাজা করার জন্য একটি ভবন তৈরি করা হয়েছিল সেটাও অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে এমনি রানিগঞ্জেও একটি শপিংমল পড়ে রয়েছে। এবার এই অতিথি নিবাস নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। কয়েক মাস আগে প্রাক্তন কাউন্সিলর সিকে রেশমা এই অতিথি ভবনটি নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন। এখন প্রশ্ন উঠছে কি এটা কি সঠিক তদন্ত হবে এর পেছনে কারা কারা জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে?

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *