তোলাবাজি করলে আমি বাঁচাতে পারবো না” বার্নপুরে কর্মীদের কড়া বার্তা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
“ *বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিধান নির্বাচনের পরে এবার সাংগঠনিকভাবে দলের কর্মী ও কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার বার্নপুরের ভারতী ভবনে নিজের বিধানসভা আসানসোল দক্ষিণের মণ্ডল স্তরের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেই বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল সাধারণ মানুষের সমস্যা, সরকারি পরিষেবা এবং দলের কর্মীদের দায়িত্ব।বৈঠক প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, নির্বাচনের পরে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে সেভাবে সাংগঠনিক বৈঠক করা সম্ভব হয়নি।














তাই এবার প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব, এলাকার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শোনার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা কে পেয়েছেন, কে পাননি, কোথায় পানীয় জলের সমস্যা, রাস্তা, পথবাতি কিংবা ড্রেনেজের সমস্যা রয়েছে, সবকিছু চিহ্নিত করে প্রশাসনের নজরে আনার নির্দেশ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা নিয়ে সমস্যা থাকলেও তা সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন।বৈঠকে জল, আবর্জনা, ড্রেনেজ ও রাস্তার সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও মজবুত করতে হাসপাতাল, থানা এবং জরুরি পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদের ফোন নম্বর বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান অগ্নিমিত্রা পাল।তবে দলেট এই বৈঠকে সবচেয়ে কড়া বার্তা আসে তোলাবাজি ও বেআইনি কাজ নিয়ে। মন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, দলের কোনও কর্মী তোলাবাজি বা বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়লে আমি কোন ভাবে বাঁচাতে পারবো না।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপও করা হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।পাশাপাশি বেআইনি নির্মাণ, জলাজমি বা জলাশয় ভরাট, বেআইনি লজ-হোটেল, ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা এবং বেআইনি গোডাউনের মতো বিষয় প্রশাসনের নজরে আনার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে যে সমস্ত এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স বা দমকল ঢুকতে পারে না, সেই জায়গাগুলির তথ্য প্রশাসনকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন করেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা পালের বার্তা, সরকার, দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষ, এই তিন পক্ষকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। তবেই এলাকার সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তার সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব।বার্নপুরের ভারতী ভবনের এই বৈঠকে একদিকে যেমন দলের সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মীদের আচরণ এবং স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও স্পষ্ট ও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মন্ত্রী।


