আসানসোলে ভেঙে পড়লো পুরনো বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে জখম এক মহিলা সহ দুজন, ক্ষতিগ্রস্থ স্কুটি
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল দক্ষিণ থানার হটন রোডে গৌর মণ্ডল রোড মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা এবং পুরনো জরাজীর্ণ একটি বাড়ির দেওয়াল শনিবার রাতে হঠাৎ ধসে পড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই ব্যস্ততম ও জনবহুল রাস্তায় এই ঘটনা ঘটায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় এক মহিলা সহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ভাঙা দেওয়ালের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে একটি স্কুটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একেবারে রাস্তায় উপরে দেওয়াল ভেঙে পড়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।













খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। এর পাশাপাশি ঘটনার খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় আসেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। বিধায়কের উদ্যোগে ভেঙে পড়া দেওয়ালের ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ শুরু হয়। গৌর মন্ডল রোডে শুধু এই একটি বাড়ি যে বিপজ্জনক অবস্থায় আছে এমনটা নয়। শনিবার যে জায়গায় এই ঘটনাটি ঘটেছে, তার সামান্য দূরেই রয়েছে আরো একটি পুরনো বাড়ি।
একদম রাস্তায় এই বাড়ি থাকায় আবারও একটি দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ৫০/২৭২ হোল্ডিং নম্বরের এই বাড়ির বর্তমান মালিক হলেন বৈদ্যবাথ বন্দোপাধ্যায়। আসানসোল পুরনিগম ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্বেও, ভাড়াটিয়ার বাধার কারণে বাড়ির মালিক তা ভাঙতে পারছেন না। শনিবার রাতের ঘটনার পরে এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির মালিককে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন।
এমন অবস্থায় বাড়ির মালিক আবারও আসানসোল পুরনিগম ও বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। শনিবার রাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাস্তার ধারের এই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়ির অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এমন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে নটার পরে দেওয়ালটি ধসে পড়ার ঘটনায় আশেপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাস্তা জুড়ে প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনি আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপর তিনি আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীদের ডেকে আনেন।
তারা রাস্তা থেকে ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ শুরু করেন। পুরকর্মীরা রাস্তা থেকে ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে ফেলার পর যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা এই বাড়িটির দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তা ধসে যায়।স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন , পুর প্রশাসন যেন এলাকার দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা ও জরাজীর্ণ বাড়িগুলির একটি সমীক্ষা চালাক।
এই ধরনের বাড়িগুলি চিহ্নিত করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আটকাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।এই প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, আমি রাতেই পুর কমিশনারকে ফোন করে শহরের সমস্ত পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি নিয়ে একটা সমীক্ষা করতে বলেছি। প্রয়োজনে দ্রুত বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন যে ঘটনা ঘটেছে, তা মারাত্মক। তিনি আরো বলেন, আমি বিধায়ক হিসেবে এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

