ASANSOL

আসানসোল গার্লস কলেজে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং ল্যাব ও ফার্ম পার্কের উদ্যোগ নিবেদিতা ভবনের উদ্বোধনে মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* নারীশিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন দিশা দেখাতে উদ্যোগী আসানসোল গার্লস কলেজ। কলেজে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং ল্যাব তৈরির পাশাপাশি ফার্ম ডাইভার্সিটি পার্ক, বাটারফ্লাই গার্ডেন এবং জল সংরক্ষণকেন্দ্রিক একাধিক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। শুক্রবার কলেজের ‘নিবেদিতা ভবন’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।কলেজের নতুন ‘ভবনটি আরইউএসএ”র আর্থিক অনুদানে নির্মিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ কনটেন্ট ক্রিয়েটিং ল্যাবের জন্য ডিপিআর তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠালে তা বিবেচনা করা হবে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি পঠন-পাঠন ও গবেষণার মানোন্নয়নই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।অন্যদিকে, কলেজ ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে তার একটি অংশ চিহ্নিত করে ফার্ম ডাইভার্সিটি পার্ক তৈরির প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। বিশেষ করে বোটানি সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পড়ুয়াদের প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে তিনি জানান।মন্ত্রী বলেন, বহু দেশীয় উদ্ভিদ প্রজাতি বর্তমানে বিরল হয়ে পড়ছে।

কলেজ ক্যাম্পাসেই সেগুলির সংরক্ষণ করা গেলে পড়ুয়াদের হাতে-কলমে শিক্ষা যেমন হবে, তেমনই তৈরি হতে পারে গবেষণার ক্ষেত্র। দেশীয় উদ্ভিদের বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল ও প্রাকৃতিক উপাদান নিয়েও ভবিষ্যতে গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বোটানি-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগও বাড়তে পারে।কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে বাটারফ্লাই গার্ডেন তৈরির পরামর্শও দেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রজাপতির বৈচিত্র্য ধরে রাখতে উপযুক্ত দেশীয় উদ্ভিদ ও হোস্ট প্ল্যান্টের প্রয়োজন।

কলেজ চত্বরে নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ লাগানো হলে প্রজাপতির পাশাপাশি অন্যান্য জীববৈচিত্র্যও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।এদিন পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বাগান তৈরি করলে হবে না। কাঠবিড়ালি, হনুমান, পাখি, প্রজাপতি-সহ বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্য ও বাসস্থানের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বিভিন্ন প্রাণী ও পাখি আশ্রয় ও খাদ্য পেতে পারে।কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নতুন ভবনের দুটি বড় কক্ষকে ভবিষ্যতে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং ল্যাবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।। বহু প্রান্তিক পরিবারের ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করেন। নানা কারণে সবসময় তাঁদের পক্ষে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তৈরি করা পাঠের ডিজিটাল কনটেন্ট রেকর্ড করে অনলাইনে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাত্রীরা বাড়িতে বসেও পাঠ বারবার দেখতে ও শুনতে পারবেন।এদিন কলেজ চত্বরে বায়োডাইভার্সিটি পার্ক ও জল সংরক্ষণ সংক্রান্ত উদ্যোগেরও সূচনা করা হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা, প্রাথমিক পর্যায়ে মডেল হিসেবে শুরু হলেও আগামী দিনে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করা হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম স্কুলের প্রিন্সিপাল স্বামী ভারুপানন্দজী মহারাজ সহ কলেজের অধ্যাপিকা ও অন্যান্যরা।সব মিলিয়ে, একদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটিং ল্যাবের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, অন্যদিকে ফার্ম ডাইভার্সিটি পার্ক, বাটারফ্লাই গার্ডেন, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক ও জল সংরক্ষণ এই একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে আসানসোল গার্লস কলেজে শিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশচর্চাকে একই ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে বলে শিক্ষক মহল মনে করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *