আসানসোলের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম প্রাইভেট আইটিআইতে সমাবর্তন অনুষ্ঠান সেবাই পুজো, বললেন মন্ত্রী
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম প্রাইভেট আইটিআইতে শুক্রবার সমাবর্তন ও শংসাপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ কল্যাণ চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক তাপস বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের সেক্রেটারি মহারাজ স্বামী সৌমত্মানন্দজী। অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, আমরা যা কিছু করি, তাই সেবা। আর পূজো হয় সেবার মাধ্যমেই।













যখন স্বামীজী বলেন, “জীবের সেবাই শিবের সেবা,” তখন সেবা এবং পূজো এক হয়ে যায়। আজ, এই সুন্দর পরিবেশে, আমাদের পাঠ গ্রহণের পর এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আমরা কেবল একটি সনদপত্রই গ্রহণ করছি না। আমরা একটি বিশেষ সামাজিক, আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক দায়িত্বও গ্রহণ করছি।

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন এটি কত বড় দায়িত্ব।তিনি আরো বলেন, এই মিশন ক্যাম্পাসে চারটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, কোপা এবং কম্পিউটার অপারেটর। রামকৃষ্ণ মিশনের মূল উদ্দেশ্যই হলো উন্নত মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া, এবং তা সারা বিশ্ব জানে।
আপনারা যে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তা কাজে লাগিয়ে সমাজের সেবা করতে পারেন। মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘উন্নত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এক নম্বরে থাকবে। উন্নত ভারতের এই ধারাকে অবশ্যই বাঙালি ধারার সাথে একীভূত করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের বিপরীত দিকে এগিয়েছে। এই দুটি ধারার মিলনই হলো উন্নত বাংলা বা উন্নত পশ্চিমবঙ্গ।
কবি অমিয় চক্রবর্তীর ‘সংগতি’ কবিতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জীবন সুন্দর, কি সুন্দর “। আমাদের বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষাজগতকে সরকারের সঙ্গে, শিল্পকে সরকারের সঙ্গে, উদ্যোক্তাদেরকে সরকারের সঙ্গে এবং সময়কে সরকারের সঙ্গে এক করা। এটাই এই নবগঠিত সরকারের প্রধান দিকনির্দেশনা।
পড়ুয়াদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, এখান থেকে তোমরা যে সনদপত্র নিচ্ছ, তা তোমাদের কাজে যোগ্যতার প্রমাণ দেবে, যেমনটা সমাজ ও দেশ বিশ্বাস করে। কিন্তু এর পাশাপাশি আমাদের কাজে সৎ থাকতে হবে। এই সততার প্রয়োজন সর্বত্র, যার অভাব আমরা গত কয়েক দশক ধরে দেখে আসছি। তোমাদের কাজের মাধ্যমেই তোমরা পরিচিতি পাবে। মানুষ সবসময় বলবে, এই ব্যক্তি একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তাই তিনি এত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর কাজ করতে পারছেন।

