দুর্গাপুজো নিয়ে আসানসোলে পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক বিসর্জনে ট্রলি ব্যবহারের পরিকল্পনা
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক হল বৃহস্পতিবার সকালে আসানসোলের রবীন্দ্রভবনে। এই বৈঠকে বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার, আসানসোল পুরনিগমের পুর কমিশনার দিলীপ মিশ্র আসানসোল উত্তরের কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক বিধায়ক, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।













পুজোকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল মেনে চলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।পরে, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পোন্নাবালম বলেন, নিরাপদ পুজোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম ও প্রোটোকল মেনে চলতে পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য দপ্তর-সহ বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকেও পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা এবং করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও পরামর্শ শোনা হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে রাস্তা পরিষ্কার রাখা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন করার বিষয়েও পুজো কমিটিগুলিকে জানানো হয়।
বিসর্জন নিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক আরো বলেন, যেসব বিসর্জন ঘাটে প্রতিমার সংখ্যা বেশি থাকে, সেখানে প্রচলিত ক্রেন ব্যবস্থার পরিবর্তে ট্রলি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে। এছাড়াও বিসর্জন শেষ হওয়ার পর দ্রুত ঘাট ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আসানসোল পুরনিগম ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বিসর্জনের পর দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলাশাসক এস. পোন্নাবালম।পুলিশ কমিশনার বলেন, এইবছর নতুন করে বেশ কয়েকটি পুজো কমিটিকে অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুজো ও বিসর্জনে ডিজে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকার বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজোকে ভালোভাবে করতে সবরকম পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সব পুজো কমিটিগুলোর কাছে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের বার্তা পৌঁছে গেছে।

