এগিয়ে এলো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুর্গাপূজোয় নতুন পোশাক পেলো বার্নপুরের সাঁওতাল পাড়ার ছেলেমেয়েরা
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রতি বছরের মতো এই বছরও পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বার্নপুরের শ্যামডিহি সাঁওতাল পাড়ার শিশু, বালক-বালিকা এবং কিশোর-কিশোরীদের হাতে দুর্গাপুজোর নতুন পোশাক তুলে দিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ” ইয়োর অর্গানাইজেশন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন”। রবিবার বিকেলে সংস্থার পক্ষ থেকে আসানসোলের একটি নামী বস্ত্র বিপনি থেকে শার্ট, প্যান্ট, চুড়িদার, ফ্রক এবং সালোয়ার-কামিজ ৭০ জন শিশু থেকে কিশোর-কিশোরীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।ইয়োর অর্গানাইজেশন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর শিক্ষক সৌরভ লায়েক এই প্রসঙ্গে বলেন, সারা বছর আমরা সমাজের প্রান্তিক স্তরের মানুষদের জন্য যেসব মানবিক পরিষেবা দিয়ে থাকি,













তার মধ্যে এই সাঁওতাল জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে বিভিন্ন বয়সী বাচ্চাদের পুজোর নতুন পোশাক তুলে দেওয়াটি আমাদের অন্যতম কর্মসূচি।বর্তমানে আমেরিকায় থাকা সংস্থার অন্যতম সদস্যা প্রবাসী বাঙালি দেবযানী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সুদূর প্রবাসে বসেও নতুন পোশাক পাওয়ার পর শিশুদের মুখের হাসি মনে করিয়ে দেয়, দুর্গোৎসব আসন্ন । শিক্ষিকা ঈশিতা গান্ধী বলেন, আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা সাধারণত যে উন্নত মানের পোশাক পরে থাকে, আমরা সেই একই মানের পোশাক প্রতি বছর এদের দিয়ে থাকি। আমরা মনে করি এইসব দেবশিশুরা আমাদের পরিবারেরই সন্তান।
সংস্থার কোষাধ্যক্ষ দেবজিৎ রায় বলেন, পোশাক-পরিচ্ছদ বাবদ সমস্ত অর্থ ব্যয় করেছেন সংগঠনের সদস্যরাই। আমরা বাইরে থেকে কোনরকম অর্থ সংগ্রহ করিনি। কলকাতায় থাকা আসানসোল বি.বি. কলেজের প্রাক্তনী সুদীপ্ত মজুমদার ফোনে বলেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার আমরা ঠিক করেছিলাম সব বয়সী বাচ্চাদেরই পুজোর জামাকাপড় দেওয়া হবে।
সেইমতো এবার সংখ্যাটা ৭০ জন ছাড়িয়ে গেছে।আমেরিকার ভার্জিনিয়া থেকে সংস্থার অন্যতম উপদেষ্টা পল উপাধ্যায় জানিয়েছেন, শ্যামডিহির জনজাতি অধ্যুষিত এই এলাকায় আমাদের যে ফ্রি টিউটোরিয়াল হোম আছে, সেখানকার ৩০ জন বাচ্চাকেও বাকিদের সঙ্গে দুর্গাপুজোর নতুন জামাকাপড় দেওয়া হয়েছে।সংগঠনের কার্যকরী কমিটির অন্যতমা সদস্যা রেলকর্মী শম্পা রায় চৌধুরী বলেন, শ্যামডিহির এই মহৎ অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে, এইসব অভাবী শিশুদের আনন্দ ছাড়া শারদোৎসব সম্পূর্ণ হতো না।
হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের পুরনো সদস্যা রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মী রূপা ঘোষাল বলেন, এই অঞ্চল ছাড়াও এই বছর আরও একাধিক জায়গায় পুজোর উপহার তুলে দেবে ইয়োর অর্গানাইজেশন।সংস্থার চিফ পেট্রন ডক্টর মহাদেব মাজি জানান, আমরা সবাইয়ের সাথে নবজাত শিশুদেরকেও নতুন জামা প্রদান করেছি।সংগঠনের সহ-সম্পাদক অতনু চক্রবর্তী বলেন, আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকি।
বাচ্চাদের জামাকাপড় পাওয়ার পর ওদের চোখে-মুখে যেভাবে খুশির ঝলক দেখা দেয়, তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।ইয়োর অর্গানাইজেশনের শিক্ষা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর অরুন্ধতী ব্যানার্জি বলেন, গত তিন বছর ধরে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এখানে প্রায় সব বাচ্চাদের পুজোর পোশাক প্রদান করে আসছি।শ্যামডিহিতে এইসব ছেলেমেয়েদের জন্য যিনি ফ্রি-টিউটোরিয়াল হোম খুলেছেন এবং বারবার এই অঞ্চলে মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, সেই বিশিষ্ট কৃতী প্রবাসী বাঙালি পুলক চক্রবর্তী ভার্জিনিয়া থেকে বার্তা দেন, প্রান্তিক এবং অভাবী মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের আবশ্যিক কর্তব্য। সেই কাজই নিরন্তর করে চলেছে ইওর অর্গানাইজেশন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।
রবিবারের পড়ন্ত বেলায় ৭০ জন নানান বয়সী বাচ্চাদের জামাকাপড় দেওয়ার সাক্ষী ছিলেন এবছর প্রথমবার আসা আসানসোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্রজেন্দু রায়। তিনি আবেগমথিত গলায় বলেন, এইরকম অনুষ্ঠানে যদি নিজেকে আরও বেশি জড়াতে পারি, তবে তা হবে আমার পরম সৌভাগ্য।এদিনের এই পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে সৌরভবাবুরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি প্রাক্তন শিক্ষক বিশ্বনাথ মিত্র, ইস্কোর এ জি এম বরুণ মাজি, প্রসেনজিৎ দাস, সুজিত ভদ্র, শিক্ষক শুভাশিস সোম, শিক্ষক সৌরভ দাসগুপ্ত সহ অন্যান্য সদস্যরা।
এদিকে, দুর্গাপুজোর নতুন জামা-প্যান্ট, চুড়িদার, ফ্রক পেয়ে বেজায় খুশি সুর্তি বেসরা, নুপুর হাঁসদা, শিল্পা মুর্মু, অনিমেষ হাঁসদা, অবিনাশ হাঁসদা, বিশাল মুর্মু, সুরেন্দ্র হাঁসদা, রোহিত মুর্মুরা। অভিভাবক-অভিভাবিকারা বেশিরভাগই দিনমজুর অথবা রোজগারবিহীন মানুষ, স্বভাবতই তাঁরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের হাতে পুজোর নতুন পোশাক দেখে খুবই আনন্দিত।

