আসানসোলে রাস্তার গর্তে পেট্রল ভর্তি ট্যাঙ্কার পড়ে বিপত্তি, যান চলাচল ব্যাহত
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ইলেকট্রিকের কেবল বসানোর জন্য রাস্তায় করা গর্তে পেট্রল ভর্তি একটি ট্যাঙ্কার আটকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের এস বি গড়াই রোডে উপেন্দ্রনাথ স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, গর্তের চারপাশে কোনও নিরাপত্তা ব্যারিকেড বা সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। পেট্রোল ভর্তি ট্যাঙ্কারটি কোনভাবে উল্টে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।













এই ঘটনার জেরে এসবি গড়াই রোডের ঐ অংশে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ড পুলিশ এলাকায় আসে। বেশ কিছুক্ষণ পরে ক্রেন দিয়ে ট্যাঙ্কারটিকে তোলার ব্যবস্থা করা হয়। পাম্প মালিক দেবদাস দত্তের অভিযোগ, ইলেকট্রিক্যাল কেবলের কাজের জন্য রাস্তার উপর গর্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের পরে গর্তের আশপাশে কোনও সেফটি ব্যারিকেড বা মার্কিং রাখা হয়নি।
তাঁর দাবি, কথা বলে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাপের কারণে গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল। তবে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।স্থানীয় এক দোকানদারের দাবি, গত তিন দিন ধরে এই এলাকায় একটি কোম্পানির কেবল বসানোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল।
কাজের সময় মাটির নীচে তারের সন্ধান না পাওয়া গেলেও গর্তে জল জমে ছিল। অভিযোগ, সেই অবস্থাতেই গর্তে মাটি ফেলে তা ভরাট করা হয়। এরপর গর্তের জায়গায় কোনও সতর্কীকরণ চিহ্ন বা ব্যারিকেড দেওয়া হয়নি।স্থানীয় দোকানদারের কথায়, চালকের কোনও ভুল নেই। সামনে গর্ত রয়েছে—এমন কোনও ইন্ডিকেশনই ছিল না। ঠিকাদার, শ্রমিক বা মিস্ত্রির গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তার দাবি।
এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, এই এলাকায় প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। কাছেই রয়েছে রেজিস্ট্রি অফিস, পাশাপাশি রেলক্রসিংয়ের সমস্যাও দীর্ঘদিনের। তার উপর রাস্তার উপর নিরাপত্তাহীন অবস্থায় গর্ত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় ছিল ট্যাঙ্কারে ভর্তি থাকা পেট্রল। দেবদাস দত্তের দাবি, পেট্রল বোঝাই গাড়িটি গর্তে উল্টে গেলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।
স্থানীয় দোকানদারেরও দাবি, গাড়িটি উল্টে গেলে আশপাশের মানুষজনের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ত। আমার দোকানও ঘটনাস্থলের একবারে কাছে।এই ঘটনার পরে দীর্ঘক্ষণ ঐ কোম্পানির কারোর দেখা না পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।এই ঘটনার পরে রাস্তার কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, গর্তের চারপাশে ব্যারিকেড দেওয়া এবং স্পষ্ট সতর্কীকরণ চিহ্ন লাগানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

