রূপনারায়ণপুরে বন্ধ হিন্দুস্তান কেবলসের জমিতে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা, পরিদর্শনে দিল্লি ও নবান্নের আধিকারিকদের দল
*বেঙ্গল মিরর, রুপনারায়নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপুজোর আবহে আসানসোলের সালানপুরের রূপনারায়ণপুরে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘হিন্দুস্তান কেবলস’ কারখানার জমিতে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা জোরালো হলো। মঙ্গলবার সরাসরি দিল্লি থেকে রূপনারায়ণপুরে পৌঁছান ভারত সরকারের অতি উচ্চপদস্থ আধিকারিক তথা ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এনআইসিডিসি) চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং এনআইসিডিসির লজিস্টিকস ডাটা সার্ভিসেস লিমিটেডের (এনএলডিএস) চেয়ারম্যান রজত কুমার সাইনি।











দিল্লির প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি এদিনের এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক রাজ্য সরকারি আধিকারিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার ভূমি দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক, এসডিএলআরও এসডিএলআরও) এবং সালানপুরের বিএলএলআরও।হিন্দুস্তান কেবলসের আধিকারিক আর. এন. ওঝার চেম্বারে প্রথমে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।


সেখানে জমির যাবতীয় সরকারি নথি ও সীমানা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।বৈঠকের পর প্রতিনিধি দল লোয়ার কেশিয়া পেরিয়ে একদম অজয় নদের ধার সংলগ্ন জিতপুর এলাকার বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমি ঘুরে দেখেন।পরিদর্শক দলের প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, পর্যাপ্ত জলাশয় এবং আবহাওয়া, সবটাই নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।

এখানে ঠিক কি ধরণের ভারী বা মাঝারি শিল্প স্থাপন সবচেয়ে বেশি লাভজনক ও উপযোগী হতে পারে, সে বিষয়েই তথ্য সংগ্রহ করেন প্রতিনিধি দল বলে জানা গেছে ।হিন্দুস্তান কেবলসের মোট ১০৪৭ একর জমির মধ্যে একলপ্তে প্রায় ৬৫০ একর একদম ফাঁকা জমি রয়েছে। মোট জমির খুব সামান্য কিছু অংশে অস্থায়ী দখলদারি থাকলেও নতুন শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে তা কোনো বড় বাধা হবে না বলেই মনে করছে প্রশাসন। পরিদর্শন শেষে সেদিন বিকেলে বিকেলের বিমান ধরে দিল্লিতে ফিরে যান রজত কুমার সাইনি।
সূত্রের খবর, এই পরিদর্শনের বিশদ রিপোর্ট কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রটারির কাছে পেশ করা হবে।ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের ঘন ঘন পরিদর্শন এবং এবার সরাসরি সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরে ওয়াকিবহাল মহল আশাবাদী। খুব শীঘ্রই বন্ধ হিন্দুস্তান কেবলস কারখানার এই জমিতে নতুন শিল্প নিয়ে বড় কোনো ইতিবাচক ঘোষণা আসতে চলেছে বলে এলাকার বাসিন্দারাও মনে করছেন।

