রানিগঞ্জে আবাসন থেকে মহিলার দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, খুনের অভিযোগ পরিবারের, তদন্তে পুলিশ
*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ ও আসানসোল, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের রানিগঞ্জ থানার নিমচা ফাঁড়ির জেকে নগর কোলিয়ারি সংলগ্ন এলাকায় একটি আবাসন থেকে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। মৃত মহিলার নাম অনিতা শর্মা (৫১)। বুধবার বিকেলে আসানসোল জেলা হাসপাতালে মহিলার মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। পরে মৃতদেহ পুলিশ ছেলে ভবেশ কুমার শর্মার হাতে তুলে দেয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের পরে পুলিশ জানায়, ঐ মহিলাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা করেছে। তবে, শারীরিক নিগ্রহ করার কোন প্রমাণ রিপোর্টে আপাততঃ পাওয়া যায় নি।











এর পাশাপাশি মৃতার ভিসেরা, রক্ত, নখ, চুল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনার কে বা কারা যুক্ত রয়েছে, তা খুঁজে বার করতে পুলিশ একটি খুনের মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাতে মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার। তার সঙ্গে ছিলেন ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস, এসিপি (সেন্ট্রাল ২) বিমান কুমার মৃধা, রানিগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ পার্থ ঘোষ ও নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানা সহ এই মামলার তদন্তকারী অফিসার।
পুলিশের তরফে এই ঘটনার তদন্তে ঐ আবাসনে নিয়ে আসা হয় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের। তারা আবাসন থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর পাশাপাশি নিয়ে আসা হয় ডগ স্কোয়াতকেও। গোটা এলাকাটিকে ঘিরে রেখে দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনিতা শর্মা নামে ঐ প্রৌঢ়া দীর্ঘদিন ধরে স্বামী সাথে থাকতেন না। তিনি একাই রানিগঞ্জের জেকে নগরে বালকো কোম্পানির আবাসনে বসবাস করতেন। তার স্বামী বিজয় শর্মা দুর্গাপুরে থাকেন।
তার ছেলে ও মেয়ে বাইরে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা মঙ্গলবার রাতে ঐ আবাসন থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে নিমচা ফাঁড়িতে খবর দেন। সেই মতো পুলিশ আসে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের তল্লাশির সময় দেখা যায় ঐ আবাসনের ভেতরে জিনিসপত্র চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। আর ঐ মহিলা মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
নিমচা ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় আসেন পুলিশ কমিশনার সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। পুলিশের তরফে রাতেই মহিলার ছেলেমেয়েকে খবর দেওয়া হয়। সেই মতো ছেলে ভবেশ কুমার শর্মা আসেন। বুধবার তার উপস্থিতিতে আসানসোল জেলা হাসপাতালে মহিলার মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) বলেন, পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে মহিলাকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে একটি খুনের মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।


