মহালয়ায় বার্নপুরে দামোদর ঘাটে তর্পণে ঢল মানুষের, পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে মহালয়ায় সূচনা হলো দেবীপক্ষের। এই মহালয়ার পুণ্যলগ্নে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করলেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার ভোর থেকেই আসানসোলের বার্নপুর দামোদর নদীর বিভিন্ন ঘাটে তর্পণ করতে মানুষের ভিড় জমে। ধর্মীয় আচার , মন্ত্রোচ্চারণ এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে নদীর জলে দাঁড়িয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে জল অর্পণ করেন ভক্তরা। মহালয়ার সকালে দামোদরের ঘাটে এই চেনা দৃশ্য যেন বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কথাই আরও একবার তুলে ধরল।











জানা গেছে, এদিন ভোর প্রায় চারটে থেকেই দামোদর নদীর বিভিন্ন ঘাটে মানুষের আসা শুরু হয়। ভোরের অন্ধকার কাটিয়ে ধীরে ধীরে আলো ফুটতেই ঘাটে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তর্পণ করতে আসেন, আবার কেউ একাই এসে পূর্বপুরুষদের স্মরণে ধর্মীয় আচার পালন করেন। নদীর জলে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট রীতিনীতি মেনে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে তর্পণ করেন তাঁরা।
অনেকের কাছেই এই দিনটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার পালনের দিন নয়, বরং প্রয়াত বাবা-মা, দাদু-ঠাকুমা এবং পরিবারের অন্যান্য পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিশেষ মুহূর্ত।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং দেবীপক্ষের সূচনালগ্ন। এই দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল নিবেদন করে তাঁদের আত্মার শান্তি ও পরম কল্যাণ কামনা করা হয়।
সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই প্রতি বছর মহালয়ার সকালে দামোদর নদীর ঘাটে তর্পণ করতে ভিড় জমান বহু মানুষ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতি আজও মানুষের মধ্যে সমানভাবে সমাদৃত।মহালয়া মানেই বাঙালির মনে দুর্গাপুজোর আগমনী সুর। একদিকে যেমন পিতৃপুরুষদের স্মরণে তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপক্ষকে বিদায় জানানো হয়, অন্যদিকে তেমনই দেবী দুর্গার আবাহন এবং শারদোৎসবের সূচনার অপেক্ষায় নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়।
ভোরের নদীর ঘাটে তর্পণরত মানুষের উপস্থিতি সেই ধর্মীয় আবহকে আরও গভীর করে তোলে।মহালয়াকে কেন্দ্র করে দামোদর নদীর ঘাটে মানুষের ব্যাপক সমাগমের কথা মাথায় রেখে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ভোর থেকেই ঘাটের পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হয়। যাতে তর্পণ করতে আসা মানুষজন নিরাপদে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।
নদীর জলে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো।ঘাটে উপস্থিত মানুষদের নদীর গভীরে না যাওয়ার জন্য মাইকের মাধ্যমে বারবার সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে শিশু, মহিলা এবং বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তর্পণ চলাকালীন ঘাটে সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখা হয়।বার্নপুরের দামোদর নদীর পাশাপাশি আসানসোল শিল্পাঞ্চলে থাকা অজয়, বরাকর, গাড়ুই ও নুনিয়া নদীতে প্রচুর মানুষ মহালয়ায় তর্পণ করেন।


