ASANSOL

আসানসোলে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে উত্তেজনা দুই দুর্গাপূজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপূজোর বিসর্জন চলাকালীন দুটি পূজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের সহযোগী নগর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। লোয়ার সহযোগী নগর পূজো কমিটির সম্পাদক প্রবীণ কুমার দ্বিবেদী অপর কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, চেন ছিনতাই এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন।শুক্রবার প্রবীণ দ্বিবেদী বলেন, পূজোর পরে সন্ধ্যায় আমরা বিসর্জন শুরু করি। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর আমরা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার জন্য মন্দিরের পুকুর পাড়ে আসি। আমরা রকেট সহ অন্য বাজিগুলো ফোটাচ্ছিলাম।

ঠিক সেই মুহূর্তে পুকুরের অপর পারে থাকা অপর কমিটির মুকেশ কুমার সিং এবং বিজয় বার্নওয়াল সহ দু/তিনজন সদস্য এসে বাজি ফোটানো ছেলেদেরকে ধাক্কা দেন। যার ফলে তারা পড়ে যায়। তখন দুই কমিটির কিছু সদস্য হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপরে দুই পুজো কমিটি নিজেদের প্রতিমা বিসর্জন শেষ করে।প্রবীণবাবুর অভিযোগ, বিসর্জনের পরে আসল ঘটনাটি ঘটে। বিসর্জন শেষ করে আমরা যখন আমাদের প্যান্ডেলে ফিরছিলাম, তখন অন্য কমিটির সদস্যরা রাস্তার পাশে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

আমরা পাশ দিয়ে যেতেই তারা আমাদের ৩/৪ জন সদস্যের উপরে চড়াও হয়ে হামলা চালায়। তাদের মারতে শুরু করে।তিনি বলেন, ধস্তাধস্তির সময় বিজয় শঙ্কর সিংয়ের বড় ছেলে রজনীশ কুমার ও তার সহযোগীরা সভাপতির চেন ছিঁড়ে দেয় ও কুর্তার বোতাম ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এমনকি তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়। তাতে বেশ কয়েকজন আহতও হন। প্রবীণ দ্বিবেদী জানান, অভিযুক্তরা চিৎকার করে বলছিল, আমরা সবাইকে পুঁতে ফেলব। আমরা ওদের পিটিয়ে মেরে ফেলবো।

হুমকি দিয়ে বলা হয় তোমরা কিভাবে পূজো করো, কিভাবে বাইরের লোক ডাকো দেখবো ? এই পুজো কমিটির সচিব স্পষ্ট করে জানান, তারা কোনো বোমা ফাটাননি। কেবল মাত্র অবশিষ্ট ছোট বাজিগুলো ফাটিয়েছিলাম। সেগুলো অন্য কমিটির কাছে ছিল না। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত পুজো কমিটির প্রবীণ সদস্য বিজয় শঙ্কর সিং তাদের বিরুদ্ধে উঠা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।

বিজয় শঙ্কর সিং বলেন, আমরা গত ১২/১৩ বছর ধরে এখানে পূজো করে আসছি। এবার আমাদের প্রতিমা বিসর্জন দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কলোনি ছেড়ে যেতে বারণ করা হয়েছিল,। আমরা পুরো কলোনিকে সঙ্গে নিয়ে এখানেই প্রতিমা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছিতিনি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন যে, যখন অন্য একটি কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছিল, তখন আমরা পুকুরের জল পরিষ্কার করছিলাম।

সেই সময় সেখান থেকে একটি বিশাল আতশবাজি বা বোমার মতো বস্তু ছোড়া হয়, যার ফলে জল ছিটকে পড়ে।বিজয় শঙ্কর সিং প্রশ্ন তোলেন, এখানে আতশবাজি ও বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছিল কেন? আপনারা যেখানে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছিলাম সেখানে এটা করা হয়েছে কেন? আমাদের বিসর্জনের সময় এটা কেন করা হয়েছে ? তিনি বলেন , অন্য কমিটি আমাদের প্যান্ডেলের সামনে ২৫/৩০ মিনিট ধরে প্রতিমাটি দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। আবির ছুঁড়েছিলো ও বাজি ফাটিয়েছিল।

এর পাশাপাশি আমাদের কার্যনির্বাহী সভাপতি বিজয় সাহুর বাড়ির সামনেও প্রতিমাটি ৩০/৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। যার প্রমাণ সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। ভয় দেখানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কলোনির লোকদের জিজ্ঞাসা করুন। আমরা শিব ও দুর্গা মন্দির নির্মাণের জন্য সবার কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছি।

তারা কি মন্দিরে টাকা দান করেছে? আমাদের আচরণ যদি খারাপই হতো, তাহলে লোকেরা আমাদের দান করত কেন?” তিনি গোটা ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে এসপি সিং, দীপক বরণওয়াল, মনোজ পাসওয়ান এবং বিশ্বজিৎ নাথের নাম উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি তিনি এই পূজো কমিটির তহবিলের উৎসের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুরো বিষয়টির তদন্তের দাবি জানান।এদিকে, পুলিশ জানায়, ঠিক কি ঘটনা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *