কোজাগরী পূর্ণিমায় বাঙালির ঘরে ঘরে হয় এই পুজো হারিয়ে যেতে বসেছে ” সরার লক্ষ্মী” র ঐতিহ্য
. *বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* সামনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাঙালির ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তবে লক্ষ্মী প্রতিমার পাশাপাশি একসময় বহু বাড়িতে “পটের লক্ষ্মী ” বা ” সরার লক্ষ্মী” পুজোর বিশেষ প্রচলন ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রাচীন ঐতিহ্যই যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে।জানা গেছে, বাংলাদেশে সরায় আঁকা লক্ষ্মীর পুজোর প্রচলন দীর্ঘদিনের। সেই ঐতিহ্যের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিবারে সময়ের সঙ্গে চলে আসে ।













আজও বেশ কিছু বাড়িতে মাটির সরায় আঁকা দেবী লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং পুজোর রীতিতে পরিবর্তনের ফলে সরার লক্ষ্মীর চাহিদা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।আসানসোলের মহিশীলা কলোনির ” কুমারটুলি ” পালপাড়ার মৃৎশিল্পী প্রসেনজিৎ পালের কথায়, আগের তুলনায় সরার লক্ষ্মী বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। একসময় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় এই সরার চাহিদা ব্যাপক ছিলো। কিন্তু বর্তমানে সেই ছবি অনেকটাই বদলে গেছে। তিনি আরো বলেন, এটা হাতে তৈরি করতে হয়।
ফলে এই প্রাচীন শিল্প ও পুজোর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।মহিশীলা কলোনির বাসিন্দা পেশায় পুরোহিত মোহন গাঙ্গুলি ও প্রবীর গাঙ্গুলির কথাতেও উঠে এলো তেমনই উদ্বেগের কথা। তারা বলেন, আমরা যতদূর জানি এই সরার লক্ষী বা বা পটের লক্ষীর পুজো বাংলাদেশে ছিলো। পরে তা বাংলায় আসে। এখানে একটা সময় বাড়িতে বাড়িতে এই সরার লক্ষীর আরাধনা করা হতো।
কিন্তু এখন আর তেমন ভাবে হয়না। খুবই কমই হয়। এখন সবাই প্রতিমা পুজো করেন।বলা যেতে পারে, এই পরিস্থিতিতেও কিছু পরিবার আজও নিষ্ঠার সঙ্গে সরার লক্ষ্মীর পুজো করে আসছেন। তাঁদের হাত ধরেই বেঁচে রয়েছে বাংলার এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এই সরার লক্ষ্মীপুজোর ঐতিহ্য কতটা টিকে থাকে, সেটাই দেখার।

