জামুড়িয়ায় শ্যামসেল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ২০ লক্ষ ক্ষতিপূরণ-চাকরির আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, জামুড়িয়া: পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় শ্যামসেল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড কারখানার ভিতর থেকে রবি হাঁসদা নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে কারখানার প্রধান ফটকে বিক্ষোভে শামিল হন আদিবাসী সমাজের মানুষজন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে অবরোধ ও বিক্ষোভ।মৃত রবি হাঁসদার বাড়ি জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত বাবুডাঙা এলাকায়।











জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে সহকর্মীরা কারখানার ভিতরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জামুড়িয়া থানা, কেন্দা ফাঁড়ি ও চুরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।এদিকে, শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক দাবিতে কারখানার প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরা।


মৃতের পরিবারের অভিযোগ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এসটি মোর্চার সভাপতি জানিয়েছেন, আলোচনার পর মৃতের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং শেষকৃত্যের জন্য অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। পাশাপাশি, মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া এবং তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য দাবির বিষয়ে সমঝোতার কথা জানানো হলেও রবি হাঁসদার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে।একজন শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং মৃতের পরিবারের কাছে দেওয়া আশ্বাসগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করা।

