আসানসোলে বিনিয়োগের নামে প্রায় ৯০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ, অফিস বন্ধ করে উধাও সংস্থার কর্তারা, পুলিশের দ্বারস্থ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পণ্যভিত্তিক সংস্থায় বিনিয়োগ করে মোটা অঙ্কের লাভের আশায় টাকা জমা দিয়েছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু দুর্গাপুজোর আগে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় সংস্থার অফিস। বন্ধ হয়ে যায় পরিচালকদের মোবাইল ফোনও। এরপরই মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে বিনিয়োগের নামে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আসানসোল থেকে ঝাড়খণ্ড সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। যদিও প্রতারণার মোট অঙ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্তের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা পরিষ্কার নয়।











এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের টাকা ফেরত চেয়ে মঙ্গলবার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দ্বারস্থ হন বিনিয়োগকারী। তারা লিখিত ভাবে পুলিশ আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর চার মাস ধরে ওই সংস্থা ব্যবসা চালিয়েছিল। প্রথম দিকে বিনিয়োগের উপর রিটার্ন দেওয়া হচ্ছিল। ফলে ধীরে ধীরে সংস্থার উপর আস্থা বাড়ে মানুষের। পরবর্তী সময়ে মল খোলা এবং ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর কথা বলে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আরও টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু পুজোর আগে আচমকাই সংস্থার অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর থেকে সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।এই ঘটনায় রুপনারায়নপুরের বাসিন্দা সন্দীপ বাউরি নামে এক স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঐ যুবকই বিভিন্ন মানুষকে সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের শাঁকতোড়িয়া ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।


সেই কথা বলে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন বলেও অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের।অভিযোগকারীদের দাবি, কলকাতা এবং রূপনারায়ণপুরে সংস্থার অফিসগুলি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সংস্থার কর্তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। অনিল কুমার , সুশান্ত দাস এবং সাবির আনসারি সহ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা।অভিযোগ, পণ্য বিক্রির উপর কমিশন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের মাধ্যমে লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে সংস্থার কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেদের জমা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার, চেক, ইউপিআই, আরটিজিএস এবং এনইএফটির মাধ্যমে তাঁরা টাকা জমা দিয়েছিলেন। স্মৃতি গ্রুপ এবং হোলি লাভা দেব সহ বিভিন্ন নামের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে ব্যাঙ্কের নথি ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।মঙ্গলবার প্রতারণার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একাংশ আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি দফতরে পৌঁছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির তদন্ত এবং তাঁদের বিনিয়োগের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করে দেখা হচ্ছে।
