ASANSOL

চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ বারাবনিতে গ্রামীণ হাসপাতালে উত্তেজনা

*বেঙ্গল মিরর, বারাবনি ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* চিকিৎসার গাফিলতিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল আসানসোল বারাবনি থানার অন্তর্গত কেলেজোড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল চত্বরে এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখালো উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারাবনি থানার পুলিশ। মৃত যুবকের নাম মঙ্গল মূর্মু ( ৪০)। এদিন দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে যুবকের মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বারাবনি থানার পানুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গৌরবাজার আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী আদিবাসী যুবক মঙ্গল মূর্মু শনিবার রাত থেকে বমি ও পায়খানা করছিলেন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রবিবার সকালবেলায় পরিবারের সদস্যরা তাকে তড়িঘড়ি কেলেজোড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন।পরিবারের তরফে মঙ্গলের বৌদি মঙ্গলা মূর্মুর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পরে কর্তব্যরত ডাক্তারবাবু রোগীকে কিছু ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেন। বলেন বাড়ি চলে যেতো। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। রোগীকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বারান্দা থেকে নিচে নামতেই আচমকা মৃত্যু হয় তার।এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসকের চরম গাফিলতির কারণেই এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা হলে যুবকটিকে বাঁচানো যেত।এই বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা পরিষ্কার জানিয়েছেন চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পরিষ্কার জানা যাবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিচারের দাবি জানাব।অন্য দিকে বারাবনির বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ রায়ও জানান ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিধায়ক বলেন, পরিবারের সদস্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি বলেছি আগে ময়না তদন্ত করা হোক।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ঘটনা প্রসঙ্গে হাসপাতালের তরফ থেকে এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বলা হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পুলিশ জানায়, মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে জানা যাবে, যুবকের মৃত্যুর সঠিক কারণ কি। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরকে বলা হয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *