আসানসোলে বেসরকারি কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের ১৯ নং জাতীয় সড়ক লাগোয়া কালিপাহাড়ির বাঘবন্দিতে একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হলো। সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পরে মঙ্গলবার দুপুরের পরে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান মৃত শ্রমিকের পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে কারখানার আসেন বিজেপি নেতৃত্ব। তারাও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।














আসানসোল দক্ষিণ থানার কালিপাহাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দা মৃত শ্রমিকের নাম মুন্না ওরফে মান্না সাউ (৩৮)। মঙ্গলবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে শ্রমিকের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অন্যদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় আসানসোলের কালিপাহাড়ির বাগবন্দি এলাকায় একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করছিলেন মুন্না ওরফে মান্না সাউ। সেই সময় বৃষ্টি হচ্ছিলো। তার মধ্যেই কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই কারখানার অন্য শ্রমিকদের অভিযোগ, এই দুর্ঘটনাটি কারখানা কতৃপক্ষের অবহেলার ফল।
কারখানা চত্বরের বিভিন্ন স্থানে খোলা বৈদ্যুতিক তার পড়ে ছিল। শ্রমিকরা বারবার কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানালেও কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুন্না সাউ মারা যান। শ্রমিকদের আরো অভিযোগ, কারখানা কতৃপক্ষ কর্মচারীদের ইএসআই এবং পিএফের মতো সুবিধা দেয়না। এছাড়াও, ওভারটাইম এবং অপর্যাপ্ত মজুরি নিয়ে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগেও বেশ কয়েকবার বিরোধ হয়েছিল।এই ঘটনার পরে কোম্পানির কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মুন্না সাভের মরদেহ কারখানার বাইরে রেখে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীরা মৃতের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। ঘটনার খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। মৃত শ্রমিকের ভাইপো বিজয় সাউ বলেন, কারখানা কতৃপক্ষ আমাদের ঘটনার কথা বলেনি। কাকার সঙ্গে কাজ করা একজন আমাদেরকে জানান। তিনিও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেঁচে যান।
এই প্রসঙ্গে, বিজেপির যুব মোর্চার নেতা রাহুল সিনহা বলেন, গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যেই আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে। এই কারখানা কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। মৃত শ্রমিকের পরিবারকে আইন মেনে ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। সেই দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরে, এই খবর লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের করা অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


