Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Bengal Mirror
ASANSOL

আসানসোল পুরনিগমের তিন তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ দলের কাজ নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শিক্ষক নেতা

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বলতে গেলে রাজ্যের অন্য পুরসভাগুলির মতো হিড়িক পড়েছে আসানসোল পুরনিগমে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার। শুক্রবার আসানসোল পুরনিগমের কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অশোক রুদ্র, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৈতন্য মাজি ও ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডাঃ দেবাশীষ সরকার। এর মধ্যে দেবাশীষ সরকার ও চৈতন্য মাজি আসানসোল পুরনিগমের বোরো চেয়ারম্যান ছিলেন। দেবাশীষ সরকার আগেই বোরো চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শুক্রবার চৈতন্য মাজিও কাউন্সিলর পদের সঙ্গে বোরো চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করেন।

তবে আগামী দিনে তাদের রাজনৈতিক পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য রেখেছেন তারা। কাউন্সিলর পদ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা জানান, দলীয় অফিস ভাঙচুর কিংবা কর্মীরা আক্রান্ত হলেও দলীয় উচ্চ নেতৃত্ব পাশে থাকেননি। তাই আগামী দিনে কোন পথে যাবেন তারা তা এদিন পরিস্কার করেন নি।তবে, কাউন্সিলর পদ থেকে এদিন ইস্তফা দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এনেছেন অশোক রুদ্র।

তিনি জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে দাবি করলেও, তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দলের নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ।অশোক রুদ্র বলেন, রাজ্যে নতুন সরকার বিপুল জনসমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে। সেই গণরায়কে সম্মান জানিয়েই আমরা কাউন্সিলর পদ ছেড়েছি। যাতে নতুন প্রশাসন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত নীরব থেকেছে।

তাঁর কথায়, কর্মীরা মার খাচ্ছেন, অথচ বড় বড় নেতাদের অনেককে শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই দেখা যাচ্ছে। মাঠে নেমে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এরপরই আরও আক্রমনাত্মক সুরে অশোক রুদ্র বলেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ২০২১ সালের পর থেকে পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। দল এখন কর্পোরেট স্টাইলে চলছে। আই-প্যাক ও কিছু কৌশলবিদের প্রভাবেই সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

এই সংস্কৃতিতে বহু পুরনো কর্মী দমবন্ধ অবস্থায় রয়েছেন।দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, যাঁরা বছরের পর বছর সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। পরিবর্তে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি হয়েছে, যেখানে দলের আদর্শের চেয়ে কর্পোরেট কৌশলই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে অশোক রুদ্র ইঙ্গিত দেন, তাঁর ইস্তফাতেই এই অধ্যায় শেষ নয়। পুরনিগমের আরও একাধিক কাউন্সিলর ও পদাধিকারী একই পথে হাঁটতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন।

ফলে আসানসোলে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে আসানসোল পুরনিগমে একের পর এক কাউন্সিলর ও পদাধিকারীর পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই আবহে অশোক রুদ্রের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *