ASANSOLDURGAPUR

ঋণের চাপে আত্মঘাতী ইসিএল কর্মী, নাকি অন্য কারণ দুর্গাপুরে জঙ্গল থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* জঙ্গল থেকে গাছের ডালে গলায় দড়ি দেওয়া এক ইসিএল কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হলো। শনিবার সকালের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের সরপি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম বিশ্বদেব বাউরি(৫৭)। তিনি ঝাঁঝরা কোলিয়ারির কর্মী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের ঋণের চাপ ও মানসিক অবসাদের জেরেই তিনি এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে লাউদোহা থানার পুলিশ।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বিশ্বদেব বাউরি নামে ঐ ইসিএল কর্মী । সারাদিন বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শনিবার সকালে সরপি জঙ্গলের একটি নির্জন এলাকায় গাছ থেকে গলায় দড়ি দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।মৃতের ভাইপো বিক্রম বাউরি বলেন, আমি কর্মস্থলে থাকাকালীন পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কাকার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাই। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আগেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তাই আমরা এই দিকেই খুঁজছিলাম। পরে জঙ্গলের মধ্যে কাকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

কাকা ইসিএলে চাকরি করতেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। শুনেছি, আগের দিন কিছু লোন রিকভারি বিভাগের লোক এসেছিল এবং তাঁকে হুমকিও দিয়েছিল। হয়তো সেই মানসিক চাপই উনি নিতে পারেননি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। আমি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।বিশ্বদেব বাউরির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন তিনি।

পাশাপাশি ঋণ আদায়কারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মানসিক চাপ ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।এখন প্রশ্ন একটাই, ঋণের বোঝা ও রিকভারি এজেন্টদের তথাকথিত মানসিক হেনস্থাই কি এক ইসিএল কর্মীকে আত্মঘাতী হতে বাধ্য করলো, নাকি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে লাউদোহা থানার পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঋণের চাপ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *