শতবর্ষে আবেগে ভাসল আসানসোল পাঁচ দশকের নাট্যঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মঞ্চে পূর্ণাঙ্গ ‘রক্তকরবী’
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি ‘রক্তকরবী’-র গ্রন্থাকারে প্রকাশের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে এবং আসানসোল শিল্পাঞ্চলে এই নাটকের প্রায় পাঁচ দশকের মঞ্চায়নের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে শনিবার ৪ জুলাই সন্ধ্যায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে দিশারী বার্ণপুরের উদ্যোগে আবারও মঞ্চে ফিরে আসে পূর্ণাঙ্গ ‘রক্তকরবী’। নাট্যপ্রদর্শনের পাশাপাশি, বিভিন্ন সময়ে ‘নন্দিনী’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলের নাট্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট অভিনেত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।














ফলে সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও নাট্যসাধনার এক আবেগঘন মিলনমঞ্চ।আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত এই প্রযোজনাকে ঘিরে দর্শকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ হয়ে যায়। নাটকপ্রেমীদের বিপুল উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে দেয়, শিল্পাঞ্চলে বাংলা নাটকের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ আজও সমানভাবে অটুট।নাটকটির সার্বিক পরিকল্পনা ও প্রয়োগে ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সম্পদ বসু।
আলোক পরিকল্পনায় শুভদীপ চৌধুরী, আবহসংগীতে সায়ন দত্ত এবং রূপসজ্জায় শ্যামল দালালের সৃজনশীলতা নাটকটিকে সমৃদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, সৌমিত্র মুখোপাধ্যায় ও অসিত আইচের মঞ্চ পরিকল্পনা নাটকের অন্তর্নিহিত ভাব ও পরিবেশকে দর্শকদের সামনে জীবন্ত করে তুলেছে।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিল্পাঞ্চলের চার বিশিষ্ট ‘নন্দিনী’— তাপসী বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. মধুমিতা জমিদার, শর্বরী মুখোপাধ্যায় এবং সুজাতা ভট্টাচার্যকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান।
অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন মুহূর্তেরও সৃষ্টি হয়, যখন স্মরণ করা হয় যে এই চারজনের সঙ্গেই বিভিন্ন সময়ে ‘বিশু পাগল’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে ‘রক্তকরবী’র নির্দেশনার দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন সম্পদ বসু।এদিন নাট্যচর্চায় দীর্ঘদিনের অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পাঞ্চলের প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব অমিত চট্টোপাধ্যায়কেও বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। দর্শকদের দীর্ঘ করতালি ও উচ্ছ্বাস সম্মাননা পর্বকে আরও আবেগময় করে তোলে।
অন্যদের মধ্যে ছিলেন আসানসোলের শিল্পপতি শচীন রায়।সব মিলিয়ে এই শতবর্ষ উদযাপন কেবল একটি নাট্যপ্রযোজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চলের সমৃদ্ধ নাট্যঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা নাট্যচর্চার প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। আসানসোলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই আয়োজন নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে নাট্য ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা।


