ASANSOL

আসানসোল আদালতের গেটে তালা আইনজীবীদের , পুলিশের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগে বিক্ষোভ, কর্মবিরতি

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোল জেলা আদালত চত্বরে সোমবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন বিপুল সংখ্যায় আইনজীবী আদালতের প্রধান প্রবেশদ্বার বা গেটে তালা ঝুলিয়ে পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন। আইনজীবীদের অভিযোগ, এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশ দ্বিচারিতা করছে। তাঁদের দাবি, আইনজীবীদের অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ অতি নিষ্ক্রিয় থাকলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই যথাযথ তদন্ত ছাড়াই দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশের এই”অতি সক্রিয়তা ও অতি নিষ্ক্রিয়তা” র প্রতিবাদেই এই আন্দোলন।এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন আইনজীবীরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পুলিশকে আদালত চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন, আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার স্বয়ং আদালতে এসে তাঁদের অভিযোগের জবাব দিন এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

এদিন জেলা আদালতের প্রবীণ আইনজীবী শেখর কুন্ডু বলেন, কোনও আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে প্রথমে পুলিশের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। পাশাপাশি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদককে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সরাসরি এফআইআর দায়ের করা আইনসঙ্গত নয় বলে তাঁর দাবি।আসানসোল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অয়ন রঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক বানি মন্ডল বলেন, গত ১৭ জুলাই জেলা আদালত চত্বরে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তাঁর অভিযোগ, আদালতে উপস্থিত এক আইনজীবীর সঙ্গে বাইরের কিছু ব্যক্তি দুর্ব্যবহার, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

ঐ আইনজীবী থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ প্রথমে শুধু তদন্তের আশ্বাস দেয়। এফআইআর নেয়নি। অথচ অপর পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি এফআইআর দায়ের করা হয়। যাঁদের মধ্যে কয়েকজন সেদিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকের।অভিযোগকারী আইনজীবী নরেন সাউ বলেন, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবেশী তারা সাউ ও আমার পরিবারের সঙ্গে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। ১৭ জুলাই মামলার শুনানির দিন তারা সাউ আদালতে হাজির না হলেও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আদালতে এসে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে। তিনি আরো বলেন, আমি আসানসোল দক্ষিণ পিপিতে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করার আবেদন করি। তা গ্রহণ করা হয়নি বলে আইনজীবী দাবি করেন।অন্যদিকে, আসানসোলের নামোপাড়া এলাকার বাসিন্দা তারা সাউ আইনজীবী নরেন সাউ, রাজেন্দ্র সাউ, অনিমেষ সিনহা, তাবিশ সারওয়ার, পবন কুমার জয়সওয়াল, রাহুল কেশরী, অন্তরা সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আদালত চত্বরে সুশীলা সাউয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা, হরিশঙ্কর সাউয়ের মোবাইল ফোন, মঙ্গলসূত্র ও পাঁচ হাজার টাকা ছিনতাই এবং চার লক্ষ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আদালতের স্বাভাবিক কাজও ব্যাহত হয় বলে অভিযোগে।সেই এফআইআর নিয়েই আইনজীবীদের মধ্যেকার ক্ষোভ চরমে উঠেছে।

তাঁদের দাবি, এক পক্ষের অভিযোগে দ্রুত এফআইআর হলেও অন্য পক্ষের অভিযোগে একই তৎপরতা দেখা যায়নি। পরে আইনজীবীদের চাপের মুখে নরেন সাউয়ের অভিযোগও এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।আসানসোল বার অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, তাঁদের আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়। বরং এই আন্দোলন পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার বিরুদ্ধে। দুই পক্ষের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে কোনও আইনজীবীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছে বার এ্যাসোসিয়েশন।বিক্ষোভকারীরা আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সোমবার ছিল তাঁদের আন্দোলনের তৃতীয় দিন। পুলিশ কমিশনার সরাসরি এসে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। বিক্ষোভের জেরে এদিন আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়৷ এদিন বিকেলের দিকে গোটা বিষয়টি নিয়ে বার এ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধি দল জেলা জজের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তাতে ফলপ্রসূ কোন কিছু বেরোয়নি। তাই, বার এ্যাসোসিয়েশনের তরফে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারও দাবি আদায়ে আন্দোলন চলবে।

Social Share or Summarize with AI

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *