সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে জামুড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব সিপিএম ও একাধিক গণসংগঠন
*বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বিকেলে জামুড়িয়ায় সিপিএম, এসএফআই ও ডিওয়াইএফআইয়ের যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। আপ্যায়ন ম্যারেজ হল থেকে শুরু হয়ে থানা মোড় বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এই মিছিলটি যায়। ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণে শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ হয় এদিনের মিছিল থেকে।মিছিল শেষে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএমের অজয় ওয়েস্ট এরিয়া কমিটির সম্পাদক সমিত কবি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।














শিক্ষাকে বাজারের হাতে তুলে দেওয়ার নীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দাবিতে আন্দোলনরত সোনম ওয়াংচুকের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক দায় স্বীকার করে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান এবং বলেন, শিক্ষা বাঁচানোর আন্দোলন আরও জোরদার হবে।প্রাক্তন ডিওয়াইএফআই সম্পাদক বুদ্ধদেব রজক বলেন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত যুবকদের উপর পুলিশি দমন-পীড়ন ও লাঠিচার্জ গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই দেশে কি যুব সমাজের গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি জানানোর অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? তিনি আরো বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে ১৬০-রও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। অথচ তার দায় কেউ নিচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। নচেৎ আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে।সিপিএম নেতা মাস্টার শব্বীর হুসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ গভীর সংকটে।
সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে শিক্ষা চলে যাচ্ছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি জানান এবং সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে যে বর্বর আচরণ করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ছাত্র-যুব-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।সভায় অন্য বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে সরকার যদি সংবেদনশীল ভূমিকা না নেয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হলেও আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, শিক্ষা ও গণতন্ত্রের উপর যে কোনও আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে।


