২১শে জুলাইয়ের আগে আসানসোলে তৃণমূলের দুই শিবিরের চরম কোন্দল পুর মন্ত্রীর কাছে আসানসোল পুরনিগমের ৫ বছরের দুর্নীতির তদন্তের আর্জি মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ২৬র বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু মাত্র ক্ষমতাচ্যুতই হয়েছে এমনটা নয়, আড়াই মাসের মধ্যেই দলটা পুরোপুরি দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। যে সমস্ত তৃণমূল কংগ্রেসের ৪ মে’র আগে পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে নিজেদের দলনেত্রী ও সেনাপতি হিসেবে মেনে রাজনীতি তারা এখন উল্টো সুরে গান গাইছেন। তাঁদের অধিকাংশই ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছেন বা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২১ শে জুলাই কলকাতায় শহীদ দিবসের সভাকে সামনে রেখে রবিবার আসানসোলের একটি হোটেলে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের শিবিরের একটি বৈঠক হয়।














সে বৈঠকে ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসে এই জেলা থেকে কতজন কর্মীকে এবং কিভাবে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকে পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, প্রাক্তন মেয়র বিধান উপাধ্যায়, প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক ও ওয়াসিমুল হক, অশোক রুদ্র ছাড়াও এমন অনেক নেতা ও নেত্রী উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ২১শে জুলাই প্রতিটি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীর জন্য অত্যন্ত আবেগের একটি দিন। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে ২১শে জুলাই এই জেলা থেকে বিপুল সংখ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সাধারণ মানুষ কলকাতায় পৌঁছাবেন। আসানসোল থেকে ৫০টি বাস ও একাধিক ছোট গাড়িতে কর্মীরা সভায় যাবেন।তবে, এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে পান্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, বিজেপি আগামী ২৫ বছর বাংলায় এক নম্বরেই থাকবে। তাই কোন দলগুলো দুই নম্বর পদের জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে, তা নিয়ে আগ্রহী নই।
আরেক বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন য, যারা আজ সৎ হওয়ার দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তারা জনগণকে বোকা বানাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ থেকে শুরু করে একেবারে নিচ পর্যন্ত প্রত্যেক নেতা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজ তারা নিজেদের রক্ষা করার জন্য ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা বলছেন।
তিনি বলেন, আসানসোলের মানুষ এখন আর এতে আগ্রহী নন।এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ভি. শিবদাসন ওরফে দাসু রানিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক সোহরাব আলিকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে একযোগে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বিধান উপাধ্যায় অভিজিৎ ঘটক এবং ওয়াসিমুল হকের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন , ২০২২ সাল থেকে আসানসোল পুরনিগমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়ে আসছে, যে বিষয়ে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলাম।
আমি নেত্রীকে বলেছিলাম , এই ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে আসানসোল পুরনিগমের অন্তর্গত পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হবে। বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক তাই হয়েছে।তিনি বলেন, এই পুর দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে আমি শীঘ্রই পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দ্বারস্থ হবো। তাকে সবকিছুর তদন্ত করার জন্য বলবো।তিনি এদিন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীরও তীব্র সমালোচনা করেন ও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। এই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলেন, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলাম। কিন্তু নেত্রী আমার কথা তখন শোনেননি। এদিন ভি শিবদাসন ওরফে দাসু তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়েরও সমালোচনা করেন।


