ASANSOLBARABANI-SALANPUR-CHITTARANJAN

বিজেপি নেতার মদতে ইসিএলের বরাদ্দ করা আবাসন দখলের অভিযোগ, বারাবনি থানায় অভিযোগ দায়ের, কড়া হুঁশিয়ারী

*বেঙ্গল মিরর, বারাবনি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও, দখলদারির বদল হলো না। মে মাসের আগে অভিযোগ ছিলো, তৃনমুল কংগ্রেসের নেতাদের মদতে দখলদারি হতো। আর এখন বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি দখলদারির অভিযোগ উঠছে।ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএলের বরাদ্দ করা আবাসন জোরপূর্বক দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো ইসিএলের শ্রীপুর সাতগ্রাম এরিয়ার অন্তর্গত ভানোড়া কোলিয়ারিতে। এর নেপথ্যে রয় স্থানীয় বিজেপি নেতারা।

অভিযোগ তাদের মদতে দুই ব্যক্তি ইসিএলের বরাদ্দ করা আবাসন দখল করেছে নিয়েছে। গোটা বিষয়টি জানিয়ে ইতিমধ্যেই বারাবনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ইসিএল কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। অভিযোগ, বিজেপির দুই নেতার মদতে দুই ব্যক্তি ইসিএলের বরাদ্দ করা দুটি আবাসন বেআইনিভাবে দখল করে নেয়।

বিষয়টি ইসিএল কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই তারা প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।বুধবার ইসিএলের কোলিয়ারির সিনিয়র ম্যানেজার ( এইচআর) অপূর্ব বিশ্বাস ও ডেপুটি ম্যানেজার ( এইচআর) জয়শ্রী যাদবের নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইসিএলের নিজস্ব সুরক্ষা বাহিনী বা সিকিউরিটি নিয়ে যৌথভাবে দখল হওয়া আবাসন দুটি খালি করতে ভানোড়া কোলিয়ারি এলাকায় পৌঁছায়।

সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, একটি আবাসনে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। তবে অন্য আবাসনটিতে দখলকারীরা সশরীরে উপস্থিত ছিল। আধিকারিকেরা অবিলম্বে তাদের আবাসন খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সমশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ইসিএল আধিকারিকদের তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতারা পাল্টা দাবি করেন যে, এই এলাকায় এমন অনেক আবাসন রয়েছে যেখানে অবৈধভাবে বহু মানুষ বসবাস করছেন।

ইসিএলকে আগে সেগুলি খালি করাতে হবে। তবে এই যুক্তিতে কান দিতে নারাজ ইসিএল কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বরাদ্দ করা আবাসন কোনোভাবেই দখল করে রাখতে দেওয়া হবে না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে বরাদ্দ কোয়ার্টারই খালি করাতে হবে।ইসিএল আধিকারিকের কথায় কড়া হুঁশিয়ারি ফুটে ওঠে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বরাদ্দ বা অ্যালটমেন্ট করা কোয়ার্টার বেআইনিভাবে দখল হলে ইসিএলও ছেড়ে কথা বলবে না।

আইনিভাবে যা করার, তাই করা হবে।অভিযুক্তদের আবাসন খালি করার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা (হুঁশিয়ারি)বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফে অপূর্ব বিশ্বাস ও জয়শ্রী যাদবের বক্তব্য, এই সময়ের মধ্যে আবাসন খালি না করা হলে তারা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।স্বাভাবিক ভাবেই, জোর করে বরাদ্দ করা ইসিএলের আবাসন দখল করতে মদত দেওয়ার অভিযোগ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে উঠায় অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। তারা বলেন, গোটা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *