কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, গাড়ি আটকে ঘুষ নেওয়া অভিযোগ রামপুর চেকপোস্টে, সাসপেন্ড দুই মোটর ভেহিক্যালস্ ইন্সপেক্টর
বেঙ্গল কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী রামপুর চেকপোস্টে বেআইনি ভাবে গাড়ি আটকে ঘুষের অভিযোগে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য পরিবহণ দফতর। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিক্যালস্ ইন্সপেক্টর (এমভিআই-এনটি) অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাজিমুল হককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করে বিষয়টি তদন্তের জন্য অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এসিবি)-র কাছে পাঠানো হয়েছে।














২৩ জুলাই রাজ্য পরিবহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রবি ইন্দর সিংয়ের সাক্ষরিত পৃথক দুটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাতে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে জমা পড়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত চলাকালীন তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৭১ অনুযায়ী সাসপেনশন কার্যকর থাকবে এবং এই সময় তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স পাবেন।
এরপরই শুক্রবার সকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোন বেআইনি কাজ রাজ্য সরকার বরদাস্ত করবে না। রামপুর চেকপোস্টে যা হয়েছে, তা একেবারেই বেআইনি। তাই দুজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথ রামপুর চেকপোস্টকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই লরি চালক ও পরিবহণ ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বহু লরি চালকের অভিযোগ, চেকপোস্টে নথি পরীক্ষা ও যানবাহন ছাড়ার নামে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এতদিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশ্যে বড় কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এবার সরকারি নির্দেশে দুই আধিকারিকের সাসপেনশন সেই অভিযোগগুলিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।পরিবহণ দফতর রামপুর চেকপোস্টে প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য নতুন মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।
পাশাপাশি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।রামপুর চেকপোস্টে একসঙ্গে দুই আধিকারিকের সাসপেনশনের ঘটনায় পরিবহণ দফতর, লরি মালিক সংগঠন ও পরিবহণ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।


