একদিন নিখোঁজের পর জঙ্গল থেকে ৬ বছরের শিশুর দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগে উত্তাল আসানসোল
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* একদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির অদূরের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হল ৬ বছরের শিশু ঋত্বিক রুজের মৃতদেহ। ঘটনাটি আসানসোল দক্ষিণ থানার অন্তর্গত ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের তুরীপাড়া এলাকায়। রবিবার সকালে শিশুর দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার বা সিপি ডাঃ প্রণব কুমার,ডিসিপি ( সেন্ট্রাল ) সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়।













পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।মৃত শিশুর বাবা ছোটু রুজ বলেন, শনিবার সকাল থেকেই ছেলে ঋত্বিক নিখোঁজ ছিল। আমি ও আমার স্ত্রী পূর্ণিমা রুজ কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলাম। বাড়ি ফিরে ছেলেকে না পেয়ে আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে আশপাশের এলাকা, পুকুর ও জঙ্গলে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি চালাই। কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাইনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ আসানসোল দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করপ। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ রাতভর পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়।

কিন্তু শিশুকে পাওয়া যায় নি। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরের একটি জঙ্গল থেকে নিখোঁজ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, যে জঙ্গল থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, শনিবার সেই জঙ্গলেও খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটিকে সেখানে দেখা যায়নি। ফলে কিভাবে মৃতদেহ সেখানে এল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।মৃত শিশুর দাদু বাবু রুজ বলেন, আমি এই এলাকায় নিয়মিত থাকিনা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁর কথায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েছিলেন। রবিবার সকালে জঙ্গল থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধারের খবর পান। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন শিশুটির দেহ উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে এবং মাথায় বালি লেগে ছিল। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।এদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতা অঙ্কুর রায় বলেন, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত তল্লাশি শুরু করে এবং রাতভর পরিবারের সঙ্গে অনুসন্ধান চালায়।
তাঁর বক্তব্য, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই সামনে আসবে। তাই কোনও রকম আগাম মন্তব্য না করে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের সুযোগ দেওয়া উচিত।এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতেই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

