রানিগঞ্জে বিজেপি ও বাম কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা
রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি উধাও ঘিরে বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় এলাকা থেকে সাহিত্যিক রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বামেদের সংগঠন জনবাদী লেখক সংঘ ও পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক সংঘের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।বিক্ষোভ মিছিলটি শিশু বাগান মোড় থেকে শুরু হয়ে রামভগবান মোড় হয়ে পাঞ্জাবি মোড়ে পৌঁছায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সিপিএমের পতাকা ছিল। পাঞ্জাবি মোড়ে যে জায়গায় আগে রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি ছিল, সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।জানা গেছে, ওই এলাকায় বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক কার্যালয় নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একসময় দুপক্ষের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানিগঞ্জ থানার পুলিশ। কিছু সময়ের জন্য দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলে। পরে পুলিশ দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।














এই ঘটনা প্রসঙ্গে রানিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পার্থ ঘোষ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সংবিধান মেনে প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদের নামে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, ভারতীয় জনতা পার্টি বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-কে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করা হয়, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, বামেদের এখন কোন কিছু নেই। তাই তারা এখন এইসব করে রাজনীতিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এদিন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যা সবাই দেখেছেন। প্রতিবাদ সভার মাইক পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ রাতে যখন চুরি হয়, তখন প্রশাসন তা রুখতে পারে না।তিনি আরও বলেন, রাজ্যে চোর ও অপরাধীদেরই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বামপন্থীরা ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।


