ASANSOL

রূপনারায়ণপুরে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব,পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, আতঙ্কে এলাকার বাসিন্দারা

*বেঙ্গল মিরর, রুপনারায়নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* একটি পরিবারের উপর একদল দুষ্কৃতীর হামলা ও তান্ডবকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো আসানসোলের সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ির পিঠাকেয়ারিতে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ ১০/১২ জনের একটি দুষ্কৃতী দল আচমকাই চড়াও হয় এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত প্রদীপ যাদবের বাড়িতে। ইট-পাটকেল বৃষ্টি, অশ্লীল গালিগালাজ এবং ভাঙচুরে মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো বাড়িটি।এই ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত প্রদীপবাবুর স্ত্রী ইন্দিরা দেবী ও পরিবারের অন্য এক মহিলা সদস্য। গেট ভেঙে, দরজা-জানালার কাঁচ চুরমার করে এমনকি ঠাকুরঘরের জানালা পর্যন্ত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। চোখের সামনে এই তাণ্ডব দেখে তীব্র আতঙ্কে জমে যান দুই মহিলা।

উল্লেখ্য, চিত্তরঞ্জন রেলের প্রাক্তন কর্মী প্রদীপ যাদবের সম্প্রতি প্রয়াণ ঘটেছে। পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য বাইরে থাকায় এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নেয় দুষ্কৃতীরা।এই হামলার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় একটি ক্লাবে ক্যারাম খেলা নিয়ে সামান্য বচসা হয়েছিল। যা পরবর্তীতে মিটে যায়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এই সাময়িক বিবাদের “রেশ” টেনেই এত বড় একটি ঘটনাকে হাল্কা করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেবল সাধারণ বিবাদ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহ দানা বাঁধছে।

ঘটনার খবর পেয়েই চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে মেন্স কংগ্রেসের সম্পাদক তথা কংগ্রেস নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি রূপনারায়ণপুর ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের এই ঘটনা নিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগেই হিন্দুস্তান কেব্‌লস কলোনিতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এই হিংসার পরিবেশ বন্ধ করে এখন এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নজর দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি চিন্ময় তেওয়ারি বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলছি।তবে সমস্ত ঘটনার মধ্যেও বড় প্রশ্ন উঠে আসছে, এতো বড় তাণ্ডবের পরও শেষ পর্যন্ত কেন কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হলো না? এর পেছনে রাজনৈতিক চাপ, ভয় নাকি অন্য কোনো হিসাব কাজ করছে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্র এবং সালানপুর ব্লক এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।বিরোধীদের দাবি, রাজ্যে সরকার ও প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ কেন নিষ্ক্রিয়? ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক হিংসার মামলা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করলেও, বর্তমান সময়ের নিত্যনতুন হিংসার ঘটনায় পুলিশের চরম উদাসীনতা প্রকাশ পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বদলে পুলিশের এই ভূমিকায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ।

পিঠাকিয়ারির এই ঘটনা কেবল একটি বাড়ির কাচ বা গেট ভাঙার ঘটনা নয়, এটি গোটা রূপনারায়ণপুর এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর এক প্রকাশ্য হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে । পুলিশ যদি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়, তবে আগামী দিনে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।পুলিশের তরফে এই ঘটনা নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *