পেমেন্ট থেকে কমিশন কাটার অভিযোগ জামুড়িয়ার রেল সাইডিংয়ে কয়লা পরিবহন বন্ধ
*বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের সর্বস্তরে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া বিধানসভার তপসী রেলওয়ে সাইডিংকে ঘিরে উঠা একাধিক অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পরিবহণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে। এইসব অভিযোগকে সামনে এনে গাড়ির মালিক ও চালকেরা রেল সাইডিংয়ে কয়লা পরিবহন রবিবার সকাল থেকে বন্ধ করে দিয়েছেন। গাড়ির মালিক ও চালকদের একাংশের অভিযোগ, তপসী রেলওয়ে সাইডিংয়ে বর্তমানে জগদ্ধাত্রী মুভার্স ট্রান্সপোর্ট, শ্রীমাধব ট্রান্সপোর্ট, আইটি এন্টারপ্রাইজ, এবং এমএমপিএল নামে চারটি ট্রান্সপোর্ট সংস্থা কয়লা পরিবহণের কাজ করছে।














তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সংস্থা পেমেন্ট দেওয়ার সময় ৬ শতাংশ, ৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কেটে নিচ্ছে। এমএমপিএলের ক্ষেত্রে এখনও কোনও পেমেন্ট না হওয়ায় কত শতাংশ কাটা হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ডাম্পার এই সাইডিং থেকে কয়লা পরিবহণের কাজে যুক্ত থাকে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বহু গাড়ির মালিক নির্ধারিত সময়ে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না।
বিশেষ করে এমএমপিএলের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে গাড়ির মালিকরা কয়লা বোঝাই গাড়ি সাইডিং থেকে না সরিয়ে রেখে দেন, যার জেরে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।এক গাড়ির মালিকের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণত প্রায় ২০ দিনের মধ্যেই ট্রান্সপোর্ট সংস্থাগুলির বিল মিটিয়ে দেয়। কিন্তু সেই অর্থ গাড়ির মালিকদের হাতে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক দেরি হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ট্রান্সপোর্ট সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনও কমিশন কাটা ছাড়াই সম্পূর্ণ টাকা নিতে চান, তাহলে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।
তাই আমরা এদিন বেলা বারোটার পর থেকে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছি। যতদিন না, আমাদের দাবি মানা হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চলবে।এই অভিযোগের সত্যতা জানতে সংশ্লিষ্ট চারটি ট্রান্সপোর্ট সংস্থার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এখন প্রশ্ন উঠছে, গাড়ির মালিকদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দফতর কোনও তদন্ত শুরু করবে কি না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই নজর সবার।

