নাগরিক পরিষেবা, শিল্পায়ন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য ও তোলাবাজি সহ একাধিক বিষয়ে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রা পালের
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর ও আসানসোল রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন থেকে শিল্পায়ন, পানীয় জলের সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি, অবৈধ তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বুধবার আবারও কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সরকার যেমন উদ্যোগী, তেমনি আইনভঙ্গ, দুর্নীতি বা তোলাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কাজ করছে প্রশাসন।মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটি গ্রিভ্যান্স সেল চালু রয়েছে।














সেখানে নাগরিকরা ওয়ার্ড বা বোরো সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ-র মাধ্যমে কোথাও পানীয় জলের অভাব, আবর্জনা জমে থাকা, নিকাশি সমস্যা বা অন্য কোনও নাগরিক সমস্যা থাকলে তা জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।শিল্পায়ন প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বর্তমান সরকার পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কৃষিজমি বাদ দিয়ে উপযুক্ত এলাকায় শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, দেশ-বিদেশের বহু সংস্থা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এত সংস্থা আসতে চাইছে যে অনেক ক্ষেত্রে জমির সংস্থান করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, বাম আমলে আন্দোলনের কারণে বহু শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীকালে তৃণমূল সরকারের আমলে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির জেরে শিল্পের পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়।ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, কেউ যদি তোলাবাজি, সিন্ডিকেট বা ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে তা অবিলম্বে প্রশাসনকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ জানাতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের হেল্পলাইন, তাঁর ব্যক্তিগত দপ্তর, আসানসোল দক্ষিণের কার্যালয় কিংবা স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
সঠিক অভিযোগ পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। জামুড়িয়ার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিডিও পাওয়ার পরই তা পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আসানসোল পুরনিগম এলাকায় পানীয়জল সরবরাহ করার জন্য ” আমরুত” প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিপুল অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও আসানসোলের বহু এলাকায় এখনও পানীয়জল পৌঁছায়নি।
এই বিষয়ে তদন্ত হবে এবং কোথাও গাফিলতি প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে শহরের সমস্ত নাগরিকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকটের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও চিকিৎসকের অভাব বা পরিষেবায় অনিয়ম থাকলে তা প্রশাসনকে জানাতে হবে।
তিনি আশ্বাস দেন, প্রতিটি অভিযোগ স্বাস্থ্য দফতরের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন।শেষে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অভিযোগ চাপা দেওয়ার পরিবর্তে দ্রুত পদক্ষেপে বিশ্বাসী। তাই সাধারণ মানুষের কাছে আমার আবেদন, কোনও অনিয়ম, দুর্নীতি, তোলাবাজি বা নাগরিক সমস্যা চোখে পড়লে নির্ভয়ে প্রশাসনকে জানান। সরকার প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

