কুলটির নিষিদ্ধ পল্লীতে পুলিশের হানা, জুয়ার আসর থেকে উদ্ধার ৬১ হাজার টাকা, ধৃত ১
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ দিশা নিষিদ্ধ পল্লীতে মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালায়। সেই অভিযানে একটি জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতর নাম গৌতম বিশ্বাস। বুধবার ধৃতকে আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের কাছ থেকে ৬১ হাজার টাকা নগদ এবং জুয়া খেলার তাস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।














সেই কারণে গোটা নেটওয়ার্কের হদিস পেতে এবং তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন পুলিশের তরফে আদালতে করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, দিশা নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গৌতম বিশ্বাস জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এখানে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকেও বহু মানুষ জুয়া খেলতে আসতেন। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও করে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।
এমনকি এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া চলত বলেও স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয়দের আরো দাবি, গৌতম বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মুখ। অতীতে নাবালিকাদের দিয়ে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগে মহিলা কমিশনের নেতৃত্বে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে দিশা যৌনপল্লী থেকে একাধিক নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সে সময়ও গৌতম বিশ্বাসের নাম অভিযোগে উঠে এসেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকার পর ফের ফিরে এসে গৌতম বিশ্বাস পুরনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় করেন। জুয়ার পাশাপাশি আরও একাধিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোন মন্তব্য করা হয়নি।আপাততঃ জুয়ার আসরের অভিযানের মামলায় গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধার করার তদন্ত শুরু করেছে নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, বাইরের রাজ্যের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং এর নেপথ্যে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না।


