ASANSOL

বন্দীদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতে উদ্যোগ আসানসোল জেলা সংশোধনাগারে ‘পরিবার দিবস’ ও আইনি সচেতনতা শিবির

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বন্দীদের মানসিক পুনর্বাসন, পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন এবং আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আসানসোল জেলা সংশোধনাগারে বৃহস্পতিবার ‘পরিবার দিবস’ ও আইনি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (ডিএলএসএ)-এর উদ্যোগে এবং সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব অম্রপালী চক্রবর্তী, আসানসোল জেলা সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট চন্দ্রেয়ী হাইত এবং প্রোহিবিশন-কাম-আফটার কেয়ার অফিসার সমীরণ মাজি সহ অন্যান্য আধিকারিক ও বন্দিরা।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব অম্রপালী চক্রবর্তী বলেন, ‘পরিবার দিবস’ শুধুমাত্র একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়, এটি বন্দিদের সামাজিক ও মানসিক পুনর্বাসনের একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। যেসব বন্দির পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন দেখা করতে আসেন না বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বন্দীদের মানসিকভাবে শক্তি জোগায় এবং মামলার অগ্রগতি, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ সহ বিভিন্ন আইনি বিষয়েও পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চারজন বন্দীকে চিহ্নিত করে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

প্যারা লিগ্যাল ভলান্টিয়ার (পিএলভি) এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আলোচনার পর পরিবারের সদস্যরা সংশোধনাগারে এসে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে সম্মতিও দেন।তবে এদিন পারিবারিক সমস্যার কারণে চারটি পরিবারের কেউই উপস্থিত হতে পারেননি। কারও বাড়িতে মৃত্যু, আবার কারও ব্যক্তিগত জরুরি পরিস্থিতির কারণে তাঁদের আসা সম্ভব হয়নি। অম্রপালী চক্রবর্তী বলেন, এটি পরিবারের অনীহার বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

খুব শীঘ্রই তাঁরা ‘মোলাকাত’-র মাধ্যমে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশাবাদী জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। তবে, পরিবারের সদস্যরা এদিন না আসায়, চার বন্দী কিছুটা হলেও হতাশ। তাদেরকে আমরা আশ্বস্ত করতে পেরেছি ও সাহস দিয়ে বলেছি, তাদের পরিবারের সদস্যরা আসবেন বলে জানিয়েছি আম্রপালি চক্রবর্তী বলেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে বন্দীদের আইনি অধিকার, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা এবং সমাজে পুনর্বাসনের বিভিন্ন দিক নিয়েও সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ ও সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বন্দিদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *