রানিগঞ্জে ১৪ নং জাতীয় সড়কের পাশে ধসে তৈরী গর্ত, এলাকায় আতঙ্ক
*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে হাই ভোল্টেজ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ খুঁটির ঠিক নিচে ধসের ঘটনা ঘটলো। রবিবার বিকেলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র চাঞ্চল্য ছড়ালো পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের রানিগঞ্জের শিশুবাগান মোড় এলাকায়। জনবহুল এলাকায় দিনে দুপুরে হঠাৎ করেই এই ধসের ঘটনা দেখে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।জানা গেছে, রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ হঠাৎ করেই রানিগঞ্জের শিশুবাগান মোড়ের কাছে নজরুল মূর্তির বিপরীতে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ খুঁটির নিচে ধস হয়। সেই ধসে হওয়া গর্ত প্রায় ৫ /৬ ফুট গভীর হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় ঠিক ঐ জায়গায় একটি টোটো দাঁড়িয়েছিলো।














ধসে হওয়া গর্তের মধ্যে সেই টোটোর ঢুকে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু, তাড়াতাড়ি এলাকার বাসিন্দারা ঐ টোটোটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। তবে ঐ এলাকার মানুষজনেরা এই মুহূর্তে ঘটা ধসের ঘটনাকে লক্ষ্য করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, ১৪ নং জাতীয় সড়কের ব্যস্ততম এলাকা এই শিশু বাগান দিয়ে প্রতিদিন হাজারো ছোট বড় গাড়ি যাতায়াত করে। আর এই এলাকায় বছর তিনেক আগে ধসের ঘটনা ঘটেছিলো।
আর সেই এলাকার পাশেই নতুন করে এই ধসের ঘটনা ঘটায় , অনেকেরই অনুমান ধস আরও বাড়তে পারে। জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনে এইসব এলাকা দিয়ে জল নিকাশির জন্য বেশ কিছু নালা করা হয়েছিল। সেই নালা গুলি দিয়ে জল গিয়ে পড়তো হাই ড্রেনে। সেই নালার বেশ কিছু অংশ এই এলাকা দিয়ে গেছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশু বাগান ডোমপাড়া এলাকায় পূর্বে একটি বিশাল ঝিল বা জলাশয় ছিল। পরে সেই জলাশয়টি একসময় এই এলাকায় থাকা ব্রিটিশ আমলের কয়লা খনির মধ্যে তলিয়ে যায়।
এরপরে জলাশয়টি মিলিয়ে যেতে থাকে। বর্তমানে সেই এলাকাতেই জনবসতি গড়ে উঠেছে। আর সেই এলাকার আশেপাশে এই ধসের ঘটনা বেশ কয়েক দফায় ঘটলেও তা অগ্রাহ্য করেই চলছে বসবাস। তবে এবার জাতীয় সড়কের ধারে নুতন করে ধস হওয়ার ফলে, এখানে যে আর তা হবে না তা আর বলা যাচ্ছে না।
যদিও এলাকার বাসিন্দারাদের বক্তব্যে তারা দাবী করেছেন, এটা বড়সড় কোন ধসের ঘটনা হয়তো নয়। বৃষ্টির কারণে জল জমে, তা ঢুকে গিয়ে নর্দমার মাটি সরে যাওয়ার কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা বলেন, আগামী দিনে যাতে বড় ধরনের ধসের ঘটনা না ঘটে, তারজন্য প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে, এই নিয়ে প্রশাসনের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।


