আসানসোলে সোনিয়া ও রাহুলের গান্ধীর কুশপুত্তলিকা দাহ ঘিরে বিজেপি-কংগ্রেস সংঘাত, রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগ তুলে রবিবার আসানসোলের গীর্জা মোড় এলাকায় কংগ্রেস পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি অভিক মণ্ডলের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ।অভিক মণ্ডলের অভিযোগ, ১৫ আগস্ট দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে কংগ্রেস পার্টি কার্যালয়েও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী গানটির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রতিবাদেই গোটা রাজ্যের পাশাপাশি আসানসোলেও বিজেপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।














অভিক মণ্ডল স্পষ্ট করে বলেন, “বন্দে মাতরমের অপমান বিজেপি কোনওভাবেই সহ্য করবে না।”বিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় তাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। পাশাপাশি পার্টি অফিসের বাইরে লাগানো রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী-সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও উঠে বিজেপির বিরুদ্ধে ।এর প্রতিবাদে পরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গীর্জা মোড় এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করা হয়।
প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি, শাহ আলম সহ কংগ্রেস নেতারা রাস্তায় বসে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি, কংগ্রেস পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে।কংগ্রেস নেতা শাহ আলম অভিযোগ করেন, বিজেপি কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে ভয় পাচ্ছে বলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও নেতাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি বলেন, বিজেপির বিধায়ক ও মন্ত্রীদের স্পষ্ট করে বলতে হবে, বিরোধী দলকে রাজনীতি করার অধিকার দেওয়া হবে কি না। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও মসজিদ বাড়ি লেন এলাকায় কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
বিজেপির “ভয়ের রাজনীতিতে” কংগ্রেসের কোনও নেতা বা কর্মী ভয় পাবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার ইনচার্জ বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রাস্তা অবরোধ তুলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের তুমুল তর্কাতর্কি হয় বলে জানা যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।‘বন্দে মাতরম’কে কেন্দ্র করে বিজেপির বিক্ষোভ, সোনিয়া ও রাহুলের গান্ধীর কুশপুত্তলিকা দাহ, কংগ্রেস পার্টি অফিসে ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ এবং তার পরেই কংগ্রেসের রাস্তা অবরোধকে কেন্দ্র করে রবিবার গীর্জা মোড় এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।






