ASANSOLRANIGANJ-JAMURIA

রানিগঞ্জে আবার ধস, ২০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেল মাটি

*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ ও আসানসোল, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* জনবসতি এলাকা, স্কুল ও আইসিডিএস সেন্টারের কাছে প্রতি মুহুর্তে বিপদের হাতছানি। টানাবর্ষার বৃষ্টিতে আবারও ধস নামলো পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জের রঘুনাথচকে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রঘুনাথচক দুষাদপাড়া এলাকায় প্রায় ১০০ বর্গফুট এলাকা ২০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক। ধসের জায়গা থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে ঘন জনবসতি, একটি আইসিডিএস কেন্দ্র এবং স্কুল। ফলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধসের নেপথ্যে রয়েছে এলাকার পুরনো ভূগর্ভস্থ কয়লাখনি। ব্রিটিশ আমলে বেঙ্গল কোল কোম্পানির খনি এলাকায় কয়লা উত্তোলনের পরে বহু জায়গায় ঠিকমতো বালি ভরাট করা হয়নি। ফলে মাটির নীচে তৈরি হয়েছে ফাঁপা জায়গা। বর্ষার জলে সেই অংশের মাটি দুর্বল হয়ে বার বার ধস নামছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এর আগেও ২০২৩ সালের এই আগস্ট মাসেই বর্ষার সময় রঘুনাথচকের ষষ্টিতলা এলাকায় একই ভাবে ধস নেমেছিল। তার পরেও কেন ধসপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।ঘটনার খবর পেয়ে সিটু নেতা হেমন্ত প্রভাকর পুলিশ এবং রানিগঞ্জের বিডিওকে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানান।

তাঁর দাবি, ধসপ্রবণ এলাকাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে বিপজ্জনক অংশে বালি ভরাটের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যে পুলিশ ধসের এলাকা ব্যারিকেড করে দিয়েছে।তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কত বার ধস নামলে নড়বে প্রশাসন? তাঁদের আশঙ্কা, সময় থাকতে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কোনও দিন জনবসতির মধ্যেই বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ভূগর্ভস্থ ফাঁপা অংশ চিহ্নিত করে বালি ভরাট এবং ধসপ্রবণ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *