গন্ডগোলের ঘটনায় নেতা গ্রেফতারের প্রতিবাদ রানিগঞ্জ থানায় বিজেপির বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডা, আটক দুই
*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ১৪ আগস্ট রাতের সংঘর্ষের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও উত্তপ্ত হলে আসানসোলের রানিগঞ্জ। সেদিনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রানিগঞ্জ থানার পুলিশ বিজেপি মন্ডল সভাপতি সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। সেই গ্রেফতারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রানিগঞ্জ থানায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সদস্য আনন্দ সাউ সহ দুজনকে আটক করে। যা নিয়ে রানিগঞ্জ থানা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গতঃ, গত ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন রাতে রানিগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।














ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তী সময়ে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।সেই গ্রেফতারের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার থানায় আসেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, দলের মণ্ডল সভাপতি ও নেতাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে পুলিশকে। বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পুলিশের সঙ্গে বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের বাকবিতন্ডা হয়।
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে শহর রানিগঞ্জে। ১৪ আগস্টের ঘটনায় প্রকৃত দোষী কারা ও গ্রেফতার আইন মেনেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।১৪ আগষ্ট ও এদিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখছে পুলিশ।
তবে, এদিন রানিগঞ্জ থানার ঘটনার আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বিজেপি নেতারা একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, এই ঘটনায় বিজেপি বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কারোরই কোনো সম্পর্ক নেই। এই ঘটনায় পুলিশ এসসি-এসটি আইনে কিছু বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এরপরই বিজেপি নেতা আনন্দ সাউ, তপন চক্রবর্তী এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সম্পাদক বিশ্বজিৎ গরাই রানিগঞ্জ থানায় আসেন। তারা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের এসসি-এসটি আইন প্রয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ বিজেপি নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। শেষে থানা চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ আনন্দ সাউ এবং তপন চক্রবর্তীকে আটক করে।





