ASANSOL

১ লক্ষ টাকায় শিশু কেনার অভিযোগ আসানসোলে ধৃত দম্পতি সহ ৩

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ১ লক্ষ টাকায় ২ মাস ১৩ দিনের এক শিশুকে অবৈধভাবে কেনার অভিযোগ উঠলো। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আসানসোলে দম্পতি সহ মোট তিনজনকে বুধবার গ্রেফতার করেছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। ধৃতদেরকে বৃহস্পতিবার আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দম্পতির নাম হলো আসানসোল উত্তর থানার উত্তর ধাদকার লালবাংলোর বাসিন্দা সরকারী রেশন ডিলার বিনোদ কুমার গুপ্তা (৪৭), তাঁর স্ত্রী ববিতা গুপ্তা (৩৭)।

এই কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অশোক ভাওয়ালকাকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।জানা গেছে, ই-মেলে করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে আসানসোল উত্তর থানায় পুলিশ উত্তর ধাদকার গুপ্তা দম্পতির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। প্রথমে দম্পতি শিশুটিকে নিজেদের বায়োলজিক্যাল সন্তান দাবি করেন। কিন্তু পুলিশের টানা জিজ্ঞাসাবাদে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, আইনি দত্তক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বীরভূমের সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে ১ লক্ষ টাকায় এই শিশুটিকে কেনা হয়েছিল।

এমনকি দম্পতিকে শিশুটির বায়োলজিক্যাল বাবা-মা হিসেবে দেখাতে জাল নথিপত্র তৈরির অভিযোগও উঠেছে। এইঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস শিশু কিশোর ন্যায় (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৫-এর অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পশ্চিম বর্ধমানের শিশু কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে ।আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুর প্রকৃত বায়োলজিক্যাল পরিচয়, নার্সিংহোমের ভূমিকা এবং এই পাচার চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। ধৃতদেরকে হেফাজতে নিয়ে আরো জেরা করে আরো তথ্য জানা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *