রানিগঞ্জে বড়সড় ডাকাতির ছক বানচাল, আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার ৪
.বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ ও আসানসোল, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাতের অন্ধকারে বড়সড় ডাকাতির ছক বানচাল করে দিলো আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের রানিগঞ্জ থানার পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি চারচাকা গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং একাধিক ধারালো অস্ত্রশস্ত্র সহ চার দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার রাতের পুলিশের এই অভিযানের সময় সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় আরও দুই দুষ্কৃতী।














তাদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে একটি চারচাকা গাড়িতে করে ছয়জনের একটি দুষ্কৃতি দল পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের গতিবিধি পুলিশের নজরে আসার আগেই গোপন সূত্র মারফত খবর পৌঁছায় পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়িতে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে এবং বড় ধরনের অপরাধের আশঙ্কায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির আইসি নজমুল হুড়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল এলাকায় অভিযান শুরু করে। পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে দুষ্কৃতিরা বেগতিক হয়ে পড়ে। তবে পুলিশ কৌশলে ঘিরে ফেলায় দলের চারজনকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাকি দুই দুষ্কৃতি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।অভিযানের পর ধৃতদের কাছ থেকে একটি পাইপগান, বেশ কয়েকটি তাজা কার্তুজ, একাধিক ধারালো ও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র এবং একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওই গাড়িটিই অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।গ্রেফতার হওয়া চারজনের নাম হলো মহঃ আলাউদ্দিন ওরফে লাদেন (২৩), শেখ আজহারউদ্দিন (৩০), শেখ হোসেন (১৯) এবং মহঃ তাজ খান (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চারজনই বীরভূম জেলার বাসিন্দা।
তাদের মধ্যে আলাউদ্দিন ওরফে লাদেন কাঁকড়াতলা থানার কাঁকড়াতলা নামোপাড়ার বাসিন্দা। শেখ আজহারউদ্দিনের বাড়ি কাঁকড়াতলা থানার কৈথী এলাকায়। শেখ হোসেন দুবরাজপুর থানার ইসলামপুর ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা এবং মহঃ তাজ খানের বাড়ি দুবরাজপুর থানার ইসলামপুর বলতলা মোড় এলাকায়।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ছয়জনের দলটি পাঞ্জাবি মোড় এলাকায় কোনও বড় ধরনের ডাকাতি বা অপরাধমূলক কাজে উদ্দেশ্যেই জড়ো হয়েছিল।
তবে ঠিক কোন জায়গায় এবং কিভাবে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদেরকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়েছে। এদিকে পলাতক দুই দুষ্কৃতীর পরিচয় ও অবস্থান জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তাদের ধরতে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
একইসঙ্গে ধৃতদের সঙ্গে কোনও বড় অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, অতীতে তারা অন্য কোনও অপরাধে জড়িত ছিল কি না এবং এই দলে আরও কেউ রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।রাতের বেলায় পুলিশের এই অভিযানে বড়সড় অপরাধের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় স্বস্তি এলাকাবাসীর মধ্যে। আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পাঞ্জাবি মোড় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পলাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।






