সহযাত্রীকে ফিরিয়ে আনার দাবি কুলটি স্টেশনে চেন টেনে দেড় ঘণ্টা ট্রেন আটকালো তীর্থযাত্রীদের দল
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* সহযাত্রীকে ট্রেনে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কুলটি স্টেশনে চেন টেনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখলেন তীর্থযাত্রীদের একটি দল। শুক্রবারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের কুলটি স্টেশনে।জানা যায়, শুক্রবার জসিডি স্টেশন থেকে প্রায় দেড় শতাধিক তীর্থযাত্রী রায়পুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে দারভাঙ্গা–রক্সৌলগামী ট্রেনে উঠেন। ট্রেনটি মধুপুর স্টেশনে পৌঁছালে দলের এক সদস্য কিছু জিনিস কেনার জন্য ট্রেন থেকে নামেন। এর মধ্যেই ট্রেনটি মধুপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে দলের এক সদস্য ট্রেনের চেন টানেন। ট্রেনের গতি কমে গেলে মধুপুরে নেমে যাওয়া ঐ ব্যক্তি আবার ট্রেনে উঠে পড়েন।














অভিযোগ, সেই ট্রেনে থাকা আরপিএফ চেন টানার ঘটনায় এক তীর্থযাত্রী দলের যুবককে আটক করে। ঐ দলের সদস্যদের দাবি, তাঁরা চেন টানার জন্য নির্ধারিত জরিমানা দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে তাঁদের অভিযোগ, আরপিএফের পক্ষ থেকে প্রথমে ৩ হাজার টাকা এবং পরে ১১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একইসাথে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।পরে ট্রেনটি চিত্তরঞ্জন স্টেশনে পৌঁছালে ঐ যুবককে ট্রেন থেকে নামিয়ে আরপিএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে থাকা তীর্থ যাত্রীরা কুলটি স্টেশনে চেন টেনে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।তাঁদের দাবি ছিল, চেন টানার অভিযোগে চিত্তরঞ্জন স্টেশনে আটক করা তাঁদের সঙ্গীকে কুলটি স্টেশনে এনে পুনরায় ট্রেনে তুলে দিতে হবে। ঐ যুবককে ট্রেনে না তোলা পর্যন্ত ট্রেন চলতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা দাবি করেন।শেষ পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন থেকে আটক যুবককে কুলটি স্টেশনে এনে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়।
এরপর ট্রেনটি কুলটি থেকে ধানবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।জানা যায়, এই ট্রেনটি দুপুর প্রায় ৩টা ২০ মিনিটে কুলটি স্টেশনে পৌঁছায়। বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ, বিক্ষোভে প্রায় ৮৭ মিনিট কুলটি স্টেশনে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ছিল। এরফলে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।তবে, এই ঘটনা নিয়ে আসানসোল ডিভিশন ও আরপিএফের তরফে কিছু বলা হয়নি।


