১৯ নং জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত দুই ঠিকা কর্মীর ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ, দুর্গাপুরের হাসপাতালে উত্তেজনা
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় মৃত দুই ঠিকা শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতদের পরিবারের সদস্য, পরিজন ও সহকর্মীরা। রবিবার সকালে ঠিকাদারি সংস্থার এক ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ।শনিবার কাঁকসার রাজবাঁধের কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কাজ চলাকালীন ঠিকা কর্মীদের একটি দলকে দ্রুতগতির কনটেনার ধাক্কা মারে। ঘটনায় মৃত্যু হয় দুই কর্মীর।














গুরুতর জখম অবস্থায় আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ, দুর্ঘটনায় মৃত দুই ঠিকা কর্মীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি সংস্থা কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে। রবিবার সকালে সংস্থার ম্যানেজার মৃতদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা। তাঁরা দাবি করেন, মৃত কর্মীর পরিবারের অন্তত একজনকে চাকরি এবং ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহ নেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তাঁরা।বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। যদিও নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন আন্দোলনকারীরা।অন্যদিকে, ঠিকাদারি সংস্থার ম্যানেজারের দাবি, মৃত কর্মীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কর্তৃপক্ষই ঠিক করবে। এদিকে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মৃত দুই কর্মীর দেহ মর্গেই থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন পরিবার ও সহকর্মীরা।মৃত দুই কর্মীর নাম কাশীনাথ ভট্টাচার্য (৪৮) ও বিধান বাউড়ি (৩২)। তারা গলসি ও গোপালপুরের বাসিন্দা। দুজনে ন্যাশানাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ঠিকা শ্রমিক ছিলেন। প্রসঙ্গতঃ, ৬ জন ঠিকা কর্মী শনিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কাঁকসা থানার রাজবাঁধে ১৯ নং জাতীয় সড়কে কাজ করছিলেন।
সেই সময় প্রচন্ড গতিতে আসা একটি কন্টেনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদেরকে ধাক্কা মারে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছয় জনকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে। আরো চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যে কারণে তাদেরকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকেও স্থানান্তরিত করা হয় বেসরকারি হাসপাতালে।


