ASANSOL

আসানসোলে কীর্তনের আসরে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারকে ঘিরে উত্তেজনা, হামলার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, জখম একাধিক

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্তনে আমন্ত্রিত আসানসোল পুরনিগমের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর। তাকে দেখেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। গ্রামের একাংশ মানুষ হামলা চালালো আসানসোল পুরনিগম ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার সঞ্জয় নুনিয়ার সহ তার লোকজনদের উপরে। শুরু হয় ইটবৃষ্টি। আহত হন কাউন্সিলারের গাড়ির চালক সহ আয়োজকরা। রবিবার সকাল এই ঘটনাটি কুলটি বিধানসভা এলাকার আসানসোল দক্ষিণ থানা অন্তর্গত ধেমোমেন শিবমন্দির খড়মবাঁধ এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের অভিযোগ, যারা হামলা চালিয়েছে তারা চিহ্নিত বিজেপি কর্মী সমর্থক।

যদিও প্রাক্তন কাউন্সিলার সরাসরি বিজেপির দিকে আঙ্গুল না তুলে দাবি করেছেন দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করতে হবে। আসানসোল দক্ষিণ থানার পিপির পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ তরফে, এই ঘটনার জন্য আয়োজকদের দায়ী করে প্রকাশ্যে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আয়োজকদের। তাদের দাবি, এই কীর্তন ৬৫ বছর ধরে হয়ে আসছে। গত ৩০ বছর ধরে মুখ্য অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকতেন তৎকালীন বাম কাউন্সিলার রোহিত নুনিয়া। তারপর থেকে তাঁর ছেলে তৃণমূল কাউন্সিলার সঞ্জয় নুনিয়া এখানে আসছেন।

কিন্তু পুলিশের দাবি, প্রাক্তন কাউন্সিলর বাবা ও ছেলের জন্য বারবার অশান্তি হচ্ছে এলাকায়। তাদের ডাকার আগে পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। সংকীর্তন চালু করার পাশাপাশি এলাকায় যাতে নতুন করে কোন সমস্যা না হয়, তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জয় নুনিয়া বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে আমি ঐ কীর্তনে যাই। আগে থেকেই কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

আমি উদ্বোধন করতেই তারা হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, কারা এটা করেছে, এলাকার মানুষেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। আশা করি, পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে গ্রেফতার করবে।অন্যদিকে, আক্রান্ত কানাই বাউরি, লাল রাম ও সোনালী মাজি বলেন, কোনদিন এই অনুষ্ঠান নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি। সরকার বদল হওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটলো। প্রাক্তন কাউন্সিলার আমাদেরকে দেখেন। সবসময় সাহায্য করেন। এলাকার বাসিন্দাদের এই অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। পুলিশ জানায়, ঐ এলাকায় একটা গন্ডগোল হয়েছিলো। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *