আসানসোলের ব্যবসায়ী বিপাকে, দুমাস আগে টাকা দেওয়ার পরেও অন্ডাল বিমানবন্দর এলাকায় মেলেনি সংযোগ, বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুমাস আগে আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিয়েছেন। তারপরেও পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালে কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর এলাকায় গুদামে মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে বিপাকে পড়েছেন আসানসোলের ব্যবসায়ী মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। ব্যবসায়ীর গুদামে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় পেছনে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমের অন্ডাল অফিসের গাফিলতি ও টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে গত মে মাসে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় বড়, মাঝারি ও ছোট সবধরনের শিল্প স্থাপনের জন্য শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন।














তিনি নিজে ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় এসে নতুন শিল্পের সম্প্রসারণ ও নতুন কারখানার উদ্বোধন করেছেন। রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী তাপস রায়ও দুর্গাপুরে এসে বিভিন্ন বনিকসভা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন শিল্প নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কি চাইছেন ও রাজ্য সরকার কি করার পরিকল্পনা নিচ্ছে সেই ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রী আলোচনা করেছেন। শুধু তাই নয়, অন্ডালের এই বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় নতুন একটা শিল্প সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই এলাকায় ” এমএসএমই” প্রকল্পে প্রচুর কারখানা ও সংস্থা তৈরি হচ্ছে। আরো নতুন নতুন রুটে বিমান চালানোর জন্য পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিজেপি বিধায়কেরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আসানসোলের এই ব্যবসায়ীর প্রজেক্টে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার বিষয়টি অন্য মাত্রা দিয়েছে। ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এদিন পর্যন্ত আমার প্রস্তাবিত ও নির্মীয়মান গুদামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিক আমি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। একে তো টাকা জমা দেওয়ার পরে দুমাস পার হয়ে গেছে। তারপর গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আজ হবে, কাল হবে বলে আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিদ্যুতের জন্য রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমকে যা টাকা দেওয়ার কথা, তা আমি দিয়েছি। তার দাবি, যে কাজ মেশিন বা যন্ত্র দিয়ে করার কথা তা না করে দায়িত্ব পাওয়া বেসরকারি সংস্থা ম্যানুয়াল বা কর্মী দিয়ে হাতে করাচ্ছে। এরফলে সেই কাজ হওয়া সম্ভব নয়।
ব্যবসায়ী বলেন,আর কয়েক দিন আমি দেখবো। তারপর আমি আমার সমস্যার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিল্প মন্ত্রীকে জানাবো। জানা গেছে, আসানসোলের ব্যবসায়ী অন্ডাল বিমানবন্দর এলাকায় ১৫ হাজার স্কোয়ার ফুটের একটি গুদাম তৈরি করছেন। গোটা জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা আছে। দুমাস আগে গুদাম তৈরির জন্য লোহার রড সহ নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে রাখা হয়েছে। গুদাম তৈরি করতে হলে বিদ্যুৎ সংযোগ লাগবে। কিন্তু সেই সংযোগ না থাকায় কোন কাজ করা যাচ্ছে না বলে দাবি ঐ ব্যবসায়ীর। তার কথায়, আমার গুদাম ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমি সময়ে গুদাম তৈরি করতে না পারলে সমস্যায় পড়বো। এদিকে, রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমের দুর্গাপুর ডিভিশনাল অফিসের আধিকারিকের কথায়, আমাদের তরফে যা করার তা করে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু করে অন্ডালের বিদ্যুৎ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আরো জানা গেছে, দুর্গাপুর ডিভিশনাল অফিস থেকে অন্ডাল বিদ্যুৎ অফিস থেকে ব্যবসায়ীর গুদামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে বেশ কয়েকবার বলাও হয়েছে। তারা কেন তা করছে না, তা ঐ অফিসের আধিকারিক বলতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার অন্ডাল বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিককে এই ব্যাপারে ফোন করা হলে, তার কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।


