ইসিএলের সদর দফতর সিটুর সভা বেসরকারিকরণ, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক
*বেঙ্গল মিরর, শাঁকতোড়িয়া, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কোলিয়ারিগুলির বেসরকারিকরণ বন্ধ করা, ১২তম বেতন চুক্তি কার্যকর করা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ইসিএলের কোয়ার্টার থেকে মানুষকে উচ্ছেদ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ইসিএলের সদর দফতর সাঁকতোড়িয়ায় সিটুর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা হয়। ইসিএলের বিভিন্ন এরিয়া থেকে কর্মচারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জি. কে. শ্রীবাস্তব। তিনি সভা পরিচালনা করেন। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের কোলিয়ারি মজদুর সভার সহ-সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।













এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিটুর সাধারণ সম্পাদক কমরেড মনোজ দত্ত, সহ-সভাপতি আভাষ রায় চৌধুরী, সুজিত ভট্টাচার্য, সাংগঠনিক সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি গণেশ ধর এবং ঝাড়খণ্ডের রাজমহলের যোগেন্দ্র মাহাতো।সভায় সাধারণ সম্পাদক মনোজ দত্ত ইসিএলের কোয়ার্টারে বসবাসকারী মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, একজনও গরিব মানুষকে লাল ঝান্ডা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে দেবে না।
এর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।তিনি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে সামনে রেখে নভেম্বর মাসে রানিগঞ্জ থেকে কলকাতা পর্যন্ত পদযাত্রার আহ্বান জানান।সহ-সভাপতি আভাষ রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, কয়লা শিল্পের বেসরকারিকরণ এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও শক্তিশালী করতে হবে।সভায় প্রধান বক্তা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শ্রমিক ও জনবিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, লাল ঝান্ডা এই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিটি দেশবিরোধী ও শ্রমিকবিরোধী নীতির বিরোধিতা করবে। আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে।ইসিএলের কোয়ার্টারে বসবাসকারী মানুষদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদিনের এই সভা ম্যানেজমেন্টকে শুধু সতর্ক করার জন্য। এটা ভাববেন না যে পুঁজিপতিদের সরকার এসে গেছে বলে আপনাদের ইচ্ছেমতো সবকিছু চলবে।তিনি আরো বলেন, ইসিএল সরকারি সম্পত্তি।
আর সরকারি সম্পত্তি দেশের সাধারণ মানুষের সম্পত্তি। এই সম্পত্তি কোনওভাবেই কর্পোরেটের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না।সভা থেকে কোলিয়ারির বেসরকারিকরণ বন্ধ, ১২তম বেতন চুক্তি কার্যকর, পুনর্বাসন ছাড়া কোয়ার্টার থেকে উচ্ছেদ বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ বন্ধসহ শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।সভা শেষে সিটুর পক্ষ থেকে ইসিএল ম্যানেজমেন্টের কাছে শ্রমিক ও কোয়ার্টারে বসবাসকারী মানুষের বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

