আসানসোলে ১৯ জাতীয় সড়কে সশস্ত্র দুষ্কৃতিদের দৌরাত্ম, ছিনতাইয়ে বাধা পেয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ, জখম যুবক
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাতে ১৯ নং জাতীয় সড়কে সশস্ত্র দুষ্কৃতিদের দৌরাত্ম। নাইট ডিউটিতে যাওয়ার পথে এক যুবককে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা। আর তাতে বাধা দিতেই গুলি চালানো দুষ্কৃতিরা। শনিবার রাতে হওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোলে চন্দ্রচূড় মন্দিরের অদূরে ১৯ নং জাতীয় সড়কে দিল্লি পাবলিক স্কুলের কাছে। সেই গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন আসানসোলের সালানপুর থানার আল্লাডি পঞ্চায়েতের ধানগুড়ি এলাকার বাসিন্দা হরিদাস লায়েক (৪৩)। তার ডান পায়ে গুলি লাগে। তিনি আসানসোলে ইএসআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।









জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ি থেকে মোটরবাইকে করে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন হরিদাস লায়েক। একটি মোটরবাইকে থাকা তিন মুখোশধারী দুষ্কৃতি তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে অনুসরণ করছিলো বলে অভিযোগ। এরপর আসানসোলে চন্দ্রচূড় মন্দিরের অদূরে ১৯ নং জাতীয় সড়কে আচমকাই হরিদাসের মোটরবাইকের পেছন থেকে ব্যাগ নেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতিরা। ব্যাগ নিয়ে টানাটানির সময় প্রতিবাদ করতেই হরিদাসের পায়ে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।গুলিবিদ্ধ হয়েও পরেও দমে যাননি হরিদাস। তিনি মোবাইল ফোন দিয়ে হামলাকারীদের ভিডিও করার চেষ্টা করেন।




পরিবারের দাবি, হরিদাস বাইক থামিয়ে দেওয়ার পরে দুষ্কৃতিরা কিছুটা এগিয়ে প্রায় একশো মিটার দূরে দাঁড়ায়। ভিডিও করার চেষ্টা করতেই আবার আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বাইকে চেপে পালিয়ে যায় তিন দুষ্কৃতি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। আহত হরিদাসকে উদ্ধার করে আসানসোল ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোল উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপরে শুরু হয় ১৯ নং জাতীয় সড়কের নানা জায়গায় নাকা-চেকিং, তল্লাশি এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ।
ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার, ডিসি (ওয়েস্ট) সানা আখতার, ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস সহ পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা। খবর পেয়ে এলাকায় আসেন হরিদাস লায়েকের পরিবারের সদস্যরা।আহত হরিদাসের ভাইয়ের বক্তব্য হরিদাসের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তাঁদের সন্দেহ, তাঁকে আগে থেকেই নজরে রেখেছিল দুষ্কৃতিরা। ব্যাগে টাকা বা মূল্যবান কিছু রয়েছে—এমন ধারণা থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে অনুসরণ করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে, তদন্তের দাবি করেন।পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

