ভোট-পরবর্তী হিংসা ও বিপুল অনিয়মের অভিযোগ, গ্রেফতার সালানপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল প্রধান
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভোট-পরবর্তী হিংসা, বাড়িঘর ও গাড়ি ভাঙচুর এবং মারপিট করার অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুর ব্লকের কল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান শ্রীকান্ত পাতর। ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ চয়নপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে প্রথমে আটক করে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে পেশ করে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে , বাদল পাতর নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশের তরফে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ।













ধৃত শ্রীকান্ত পাতর এলাকায় বিদায়ী শাসকদলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রথমে কল্যা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন এই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। পরে তিনি প্রধান হন ।এলাকায় তার জনপ্রিয়তার নেপথ্যে সালানপুরের পরিচিত ‘রয়েল ক্লাব’-র সার্বজনীন পুজোর বিশেষ ভূমিকা ছিলো। যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি নিজেই।তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই একাধিক হিংসাত্মক ঘটনায় নাম জড়ানোয় তিনি আত্মগোপন করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল।শ্রীকান্ত পাতরের এই গ্রেফতারিতে স্থানীয় বাসিন্দা একাংশের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস তৈরী হয়েছে। একই সঙ্গে তার গত কয়েক বছরের অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। বাসিন্দাদের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে শ্রীকান্তর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র ছিল। তার বাবা চপ-সিঙাড়ার দোকান চালাতেন। শ্রীকান্ত নিজে কয়লা ঠেলার কাজ করতেন।
তবে রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার পর বিপুল বেনামি সম্পত্তি, জমি এবং ঝাড়খণ্ডে যৌথ ব্যবসার মালিকানা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কয়লা, বালি ও পাথর ব্যবসার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগ ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এমনকি জমির বিনিময়ে কোলিয়ারিতে একাধিক চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল সাম্রাজ্য ও হিংসার পেছনে কেবল শ্রীকান্ত একা নন, তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ব্যবহার জড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ জানায়, ধৃতকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তাকে আগামী দিনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এলাকায় চলা অবৈধ কারবার ও হিংসার অভিযোগের তদন্ত করা হবে। এর পাশাপাশি জানার চেষ্টা করা হবে, তার এই প্রভাবশালী হয়ে উঠার পেছনে কে বা কারা আছে।

