ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে ‘বার্নপুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে ” রক্তদান শিবির”-এর আয়োজন
বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর : প্রতি বছর ১৫ই সেপ্টেম্বর সমগ্র ভারতবর্ষে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ বা ‘প্রকৌশলী দিবস’ পালন করা হয়। এই দিনটি কিংবদন্তি ভারতীয় প্রকৌশলী এবং ‘ভারতরত্ন’ সম্মানে ভূষিত স্যার মোক্ষগুন্ডম বিশ্বেশ্বরাইয়ার জন্মবার্ষিকী। এম. বিশ্বেশ্বরাইয়া ছিলেন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী; আধুনিক ভারত গড়ে তুলতে এবং জাতিকে এক নতুন পরিচিতি প্রদানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রকৌশল ক্ষেত্রে তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও নিষ্ঠা দেশের জন্য এক অসাধারণ অবদান স্বরুপ। মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে তাঁকে সম্মান জানাতে—এবং গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে—’বার্নপুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে বার্নপুর স্টেডিয়ামের বিইউসি কনফারেন্স হলে একটি “স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির”-এর আয়োজন করা হয়েছিল।









বার্নপুরের সেইল-ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টের মানবসম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহী নির্দেশক জিতেন্দ্র কুমার এই শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং বার্নপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলে রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব প্রবীর ধর।শিবিরে অংশগ্রহণকারী সকল রক্তদাতাকে শংসাপত্র ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।




বার্নপুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম নন্দী আমাদের প্রতিনিধিকে জানান যে, আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারের সহযোগিতায় এই শিবিরের আয়োজন করতে পেরে সংগঠনটি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, সেইল-ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদমর্যাদা, উচ্চশিক্ষা এবং অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সংগঠন নিজেদের শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমাজের প্রতিও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন; ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই এই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।
শিবিরের সমন্বয়ক এবং সংগঠনের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মীর মুসাররফ আলি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান যে, গত দুই মাসে বার্নপুরের বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে এবং তাতে সেইল – ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টের অনেক “রক্তযোদ্ধা” (Blood Warriors) অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেছেন। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতে আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মোট ছাব্বিশজন ‘রক্তযোদ্ধা’ শিবিরে উপস্থিত হয়েছিলেন; তবে চিকিৎসাজনিত কারণে দু’জন কে রক্তদান করতে দেওয়া হয়নি এবং অন্য দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা এক রোগীর রক্ত প্রয়োজনের জন্য রক্তদানের উদ্দেশ্যে বার্নপুর হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে পাঠানো হয়। শিবির থেকে সব মিলিয়ে মোট বাইশ ইউনিট রক্ত আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারের কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সভাপতি সঙ্করা রাও কার্রি এই শিবিরটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারী রক্তদাতা, অতিথি, আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারের কর্মী এবং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। শিবিরটিতে অ্যাসোসিয়েশন কমিটির প্রতিনিধি লব কুমার মান্না, বুদ্ধেশ্বর ভগত, সুরজিৎ চৌধুরী, গৌতম রায়, অনিরুদ্ধ ধীবর, রাম প্রকাশ কনৌজিয়া, প্রমোদ কুমার ভার্মা, পবন গুপ্তা, সূর্যকান্ত দলাই এবং জুপিটার বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


