সরকারী অফিস না পানশালা ? ‘মদের পার্টি’র ভিডিও ভাইরাল, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, জামুড়িয়া: সরকারি দপ্তর, যেখানে গ্রামের মানুষের ভাগ্য লেখা হয়, সেখানেই নাকি বোতল খুলে চলছে ফুর্তি! পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ার চিচুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরের একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গেছে গোটা এলাকায়।









ভিডিওতে কী দেখা যাচ্ছে?




ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরেই খাবার-দাবার সাজিয়ে বসে আছেন কয়েকজন। হাতে গ্লাস, টেবিলে পানীয় – যা দেখে অনেকেই দাবি করছেন এটি মদের আসর। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এবং পানীয়টি আদৌ মদ কিনা, তা যাচাই করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে দাবি, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের একাংশ এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত, আবার কেউ কেউ সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
সরকারি দপ্তর কি ফুর্তির জায়গা?
প্রশ্ন এখানেই। সরকারি দপ্তর জনগণের টাকায় চলে, জনগণের সেবার জন্য। সেখানে তালা বন্ধের পর কীভাবে ঢুকল বাইরের লোক? কে দিল চাবি? বারবার কেন পঞ্চায়েত অফিসগুলোই এমন ‘পার্টি অফিস’ হয়ে উঠছে? এটি কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়?এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পঞ্চায়েত অফিসে মদের আসরের অভিযোগ উঠেছে। তাহলে কি সরকারি ভবনের পবিত্রতা নষ্ট করাটাই এখন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
রাজনীতির পারদ চড়ছে
এই ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূল। জামুড়িয়া ব্লক-২ এর ছাত্র নেতা অর্ক পাত্রের কটাক্ষ, “এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। গায়ের জোরে পঞ্চায়েত দখল করে রাতে মদের আসর বসানো হচ্ছে।”অন্যদিকে, জামুড়িয়ার বিধায়ক ডাঃ বিজন মুখার্জি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত যে দলেরই হোক – তৃণমূল, বিজেপি বা অন্য কেউ, তার রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি ভবনে এমন অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, নাকি এই ভিডিওও অন্যান্য বিতর্কের মতোই ধামাচাপা পড়ে যায়।

