ASANSOL

আসানসোলের কলেজে গন্ডগোল নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুন্ডাগিরি বরদাস্ত নয়’

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের বিবি কলেজে গত সোমবার অনুষ্ঠানে চলাকালে পড়ুয়াদের মধ্যে মারামারি, প্রিন্সিপালের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও গন্ডগোলের ঘটনা ঘটে। যাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় কলেজ চত্বরে। সেই ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার কলেজে পৌঁছন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ অমিতাভ বসুর সঙ্গে গোটা বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি কলেজ চত্বর ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ৪ তারিখের পর থেকে একই ধরনের ঘটনা প্রায় পাঁচবার ঘটেছে বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। গত একদিনে প্রায় ৫০-৬০টি ফোন ও মেসেজ পেয়েছি আমি। সবাই জানতে চাইছেন, কলেজে এইসব কি হচ্ছে? কলেজের পরিস্থিতি নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান বিধায়ক।কৃষ্ণেন্দুর বক্তব্য, বিবি কলেজে প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার পড়ুয়া পড়াশোনা করেন।

এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সামনে আসা ভিডিওতে যে ভাবে হাঙ্গামা ও ভাঙচুরের ছবি দেখা গিয়েছে, তাতে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কলেজের প্রিন্সিপালের বোর্ডও লোহার রড দিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।বিধায়ক বলেন, আমি নিজে ছাত্র রাজনীতি করেছি।

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখানোর একটি পরম্পরা দেখেছি। কিন্তু কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গালিগালাজ, অভব্য আচরণ বা হিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহিলা নন-টিচিং কর্মীরাও আমার কাছে অভব্য আচরণের অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানান কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে কলেজে আসেন। বারবার এমন ঘটনা ঘটলে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।কৃষ্ণেন্দুর সাফ বক্তব্য, ছাত্র হলে তাকে ছাত্রের মতো আচরণ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার জায়গা।

এখানে কোনও ধরনের গুন্ডাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ফের ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।এদিকে, কলেজের প্রিন্সিপালের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে এভিবিপি বা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের অভিযোগ নি প্রশ্ন করা হলে বিধায়ক বলেন, কোনও ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে।

কিন্তু সেই কারণে তিনি কলেজের ভিতরে রাজনীতি করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো একেবারে ঠিক নয়। প্রিন্সিপালের পদ সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয় উচ্চশিক্ষা দফতর ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা দেখবেন বলেও জানান তিনি।পড়ুয়াদের উদ্দেশে বিধায়কের বার্তা, পড়াশোনায় মন দিতে হবে এবং শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিংসা ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *